বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

স্বরাষ্ট্র ও গণশিক্ষা উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি ও অনির্দিষ্টকাল কর্মবিরতি প্রাথমিক শিক্ষকদের

ডেস্ক রিপোর্ট।।

বেতন বৃদ্ধি ও পদোন্নতির দাবিতে সারাদেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন। রোববার সকাল থেকে তারা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন।

এর ফলে দেশের প্রায় ৬৫ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ হয়ে গেছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে প্রায় এক কোটি শিক্ষার্থী।

আগামী ১৫ নভেম্বর থেকে কর্মবিরতিতে যাওয়ার ঘোষণা থাকলেও, শনিবার ঢাকায় অবস্থান কর্মসূচির সময় শিক্ষকদের ওপর পুলিশের হামলার ঘটনায় তারা নির্ধারিত সময়ের আগেই কর্মবিরতি শুরু করেন।

প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শনিবার শাহবাগে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচিতে পুলিশের রাবার বুলেট, জলকামান ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ এবং লাঠিচার্জে বহু শিক্ষক আহত ও ৫ জন আটক হন। সংগঠনটি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি করেছে।

সহকারী শিক্ষকরা তিনটি মূল দাবি জানাচ্ছেন—
১️. দশম গ্রেডে বেতন ও ভাতা প্রদান,
২️. পদোন্নতির কাঠামো পুনর্বিন্যাস, এবং
৩️.শিক্ষক মর্যাদা সংক্রান্ত নীতিমালা সংস্কার।

বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ বলেন,

“আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হামলা হয়েছে। আমরা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সারাদেশে কর্মবিরতি চালিয়ে যাব। প্রয়োজনে বিদ্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হবে।”

শিক্ষকরা ক্লাসে না থাকায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্কুলে গিয়ে ফিরে আসতে হচ্ছে। ডিসেম্বরের শুরুতে বার্ষিক পরীক্ষা থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা ও বৃত্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি ব্যাহত হচ্ছে।

অভিভাবকরা বলছেন, এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে শিক্ষাবর্ষের সমাপ্তি ও ফলাফল উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার বলেন,

“সহকারী শিক্ষকদের সংখ্যা অনেক। একসঙ্গে সবাইকে ১০ম গ্রেডে উন্নীত করা সম্ভব নয়। তবে ১১তম গ্রেডে উন্নীত করার বিষয়টি বিবেচনায় আছে।”

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান জানান,

“১১তম গ্রেডে উন্নীত করার সুপারিশ ইতোমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই কার্যকর করা হবে।”

তিনি সতর্ক করেন, দীর্ঘ কর্মবিরতিতে গেলে শিক্ষার্থীদের শেখার ঘাটতি আরও বাড়বে এবং বার্ষিক পরীক্ষার প্রস্তুতি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।

সরকার আশ্বাস দিলেও শিক্ষক নেতারা অনড় অবস্থানে আছেন। ফলে প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে, আর অভিভাবক ও শিক্ষাবিদদের মধ্যে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন