ভূমি ব্যবস্থায় জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং সরকারি-বেসরকারি জমি থেকে অবৈধ দখল উচ্ছেদে কঠোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। এ বিষয়ে সম্প্রতি ভূমি মন্ত্রণালয় নতুন নির্দেশনা জারি করেছে।
সরকারি পরিপত্রে বলা হয়েছে, প্রচলিত নীতি “দলিল যার, ভূমি তার” আর সবক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। কারণ, অনেক ক্ষেত্রে দলিল বৈধ হলেও মালিকানা বা দখলের আইনি ভিত্তি অনুপস্থিত। ফলে দলিলের আড়ালে অবৈধ দখল ও জালিয়াতির ঘটনা রোধে সরকার এখন নতুন নীতি গ্রহণ করেছে।
ভূমি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৫ সালের মধ্যে পাঁচ ধরনের জমি অবৈধ দখলমুক্ত করা হবে। প্রয়োজনে আদালতের মাধ্যমে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উদ্ধারযোগ্য জমির ধরনগুলো হলো—
-
সাব-কবলা দলিল: উত্তরাধিকার বণ্টন না করে তৈরি দলিল, যাতে বৈধ ওয়ারিশরা বঞ্চিত।
-
হেবা দলিল: দাতার পূর্ণ মালিকানা না থাকা বা শর্ত ভঙ্গের কারণে অকার্যকর দানপত্র।
-
জাল দলিল: দুর্নীতির মাধ্যমে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে তৈরি করা নকল দলিল।
-
খাস খতিয়ানের সম্পত্তি: সরকারি খাস জমি, যা অবৈধভাবে বিক্রি বা বেচাকেনা হয়েছে।
-
অর্পিত সম্পত্তি: যুদ্ধ-পরবর্তী পরিত্যক্ত জমি, যা বেআইনিভাবে দখল করা হয়েছে।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, এসব জমি শুধুমাত্র আদালতের বৈধ রায়ের ভিত্তিতেই কারও দখলে থাকতে পারবে। অন্যথায়, প্রশাসন নিজ উদ্যোগে দখলমুক্ত করবে।
ভূমি মন্ত্রণালয় বলছে, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো সরকারি সম্পত্তি পুনরুদ্ধার, ভূমি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষের ন্যায্য অধিকার সুরক্ষা করা।

