জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, “জামায়াতকে নিশ্চিহ্ন করতে যারা চেয়েছিল, তারাই আজ ইতিহাসের পাতায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। আমরা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করিনি, বরং দেশের স্বাধীনতার পক্ষেই ছিলাম—তবে ভারতের প্রভাবের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলাম।”
বুধবার (১২ নভেম্বর) সকালে ফেনীর দাগনভূঞায় উপজেলা ও পৌর জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, “আমাদের নেতাদের বিরুদ্ধে যে মানবতাবিরোধী মামলাগুলো দেওয়া হয়েছিল, সেগুলো ছিল সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসা। জামায়াতের অনেক মজলুম নেতাকে মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে, কিন্তু তাদের আদর্শ আজও বেঁচে আছে।”
তিনি বলেন, “যারা আমাদের নেতাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে উল্লাস করেছিল, আজ তারা কোথায়? শহীদ মীর কাসেম আলী দেশপ্রেমিক ছিলেন। বিদেশে নিরাপদে থাকতে পারতেন, কিন্তু তিনি বলেছিলেন—ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা যদি অপরাধ হয়, আমি সেই অপরাধের দায় নেবো। তিনি দেশ ও মানুষের প্রতি ভালোবাসা থেকেই দেশে ফিরে এসেছিলেন।”
জামায়াত নেতা অভিযোগ করেন, “আওয়ামী লীগ তাদের নিজস্ব স্বার্থে দেশকে দুর্নীতিগ্রস্ত করেছে এবং অর্থ পাচারের মাধ্যমে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। অথচ জামায়াতের নেতারা কখনো পালায়নি, সবসময় দেশের মানুষের পাশে থেকেছে।”
আগামী জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ভোটারদের আহ্বান জানাই—এইবার দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিন। আমরা ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতি ও অনিয়মের অবসান ঘটিয়ে ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠন করব। অতীতে জামায়াত সরকারে থেকে কৃষি ও শিল্প মন্ত্রণালয় পরিচালনা করেছে—এক টাকার দুর্নীতিরও অভিযোগ কেউ দিতে পারেনি।”
সভায় সভাপতিত্ব করেন দাগনভূঞা উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা গাজী ছালাহ উদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন ফেনী জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আবদুল হান্নান, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ফখরুদ্দিন মানিক ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের মজলিসে শুরা সদস্য মেজবাহ উদ্দিন সাঈদ।

