বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

শেখ হাসিনার সর্বোচ্চ সাজার প্রত্যাশা চিফ প্রসিকিউটরের

ডেস্ক রিপোর্ট।।

জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রায়ের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বুধবার সাংবাদিকদের জানান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সাজা দাবি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, “আমরা আদালতের কাছে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়ে আবেদন করেছি। আদালত অবশ্য সুবিবেচনা প্রয়োগ করবেন। তবে আমাদের পক্ষ থেকে প্রার্থনা, এই গুরুতর অপরাধের জন্য আসামিদের যেন সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হয়।”

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল – চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার ও সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী – বৃহস্পতিবার মামলার রায়ের তারিখ ঘোষণা করেন। রায় আগামী ১৭ নভেম্বর (সোমবার) প্রকাশিত হবে।

এ মামলায় অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান গত ২৩ অক্টোবর সমাপনী বক্তব্য দেন। তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রধানমন্ত্রী ও হেভিওয়েট নেতাদের বিচার উদাহরণ তুলে ধরে, শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের সর্বোচ্চ সাজার দাবিকেও বর্ণনা করেন। এরপর প্রসিকিউটর ও রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীর যুক্তি ও পাল্টা যুক্তির ভিত্তিতে রায়ের তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

চিফ প্রসিকিউটরের মতে, মামলার তথ্য ও প্রমাণাদির পরিমাণ যথেষ্ট বিস্তৃত। মোট ৮৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ৫৪ জন ইতোমধ্যে সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগের সংখ্যা আট হাজার ৭৪৭ পৃষ্ঠার, যার মধ্যে রয়েছে তথ্যসূত্র, জব্দতালিকা, দালিলিক প্রমাণাদি এবং শহীদদের তালিকা।

মামলার অপর দুই আসামি এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের ক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনাল সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি উন্মুক্ত রেখেছে। প্রসিকিউটর আশা করছেন, এই রায়ের মাধ্যমে জাতিকে জুলাই গণহত্যার প্রথম বিচারিক ফলাফল জানানো সম্ভব হবে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন