বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

জাতীয় নির্বাচনের দিনই গণভোট

ডেস্ক রিপোর্ট।।

আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে এক ইতিহাসঘটিত দিনে দেশের ভোটকেন্দ্রে ভোটাররা দুইটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে জানিয়েছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং সংবিধান সংস্কার বিষয়ক গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে।

ড. ইউনূস জানান, গণভোটে চারটি মূল বিষয় থাকবে। ভোটারদের একটিমাত্র প্রশ্নের মাধ্যমে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিতে হবে। প্রধান উপদেষ্টার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রশ্নটি হবে:
“আপনি কি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং জুলাই জাতীয় সনদে লিপিবদ্ধ সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলোর প্রতি আপনার সম্মতি জ্ঞাপন করছেন?”

গণভোটের চারটি মূল বিষয়:
ক) নির্বাচনকালীন সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন ও অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ার আলোকে গঠন করা হবে।
খ) সংসদ হবে দুই কক্ষবিশিষ্ট। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ সদস্যবিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠন হবে এবং সংবিধান সংশোধন করতে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন লাগবে।
গ) সংসদে নারীর প্রতিনিধি বৃদ্ধি, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও কমিটির সভাপতি নির্বাচন, প্রধানমন্ত্রী মেয়াদ সীমিতকরণ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি, মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং স্থানীয় সরকারসহ ৩০টি প্রস্তাব বাস্তবায়ন হবে।
ঘ) জুলাই সনদে বর্ণিত অন্যান্য সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বাস্তবায়িত হবে।

প্রধান উপদেষ্টা আরও জানিয়েছেন, গণভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট ‘হ্যাঁ’ হলে, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করা হবে। এই পরিষদ সংবিধান সংস্কারের কাজ সম্পন্ন করার পর উচ্চকক্ষ গঠন করা হবে, যা নিম্নকক্ষের শেষ কার্যদিবস পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

ড. ইউনূসের ভাষ্য অনুযায়ী, এই গণভোট ও নির্বাচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশে সংবিধান সংস্কার ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার নতুন অধ্যায় শুরু হবে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন