বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে ইইউর সমর্থন

ডেস্ক রিপোর্ট।।

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে চলমান গণতান্ত্রিক রূপান্তর প্রক্রিয়াকে স্বাগত জানিয়ে সমর্থন জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে দলগুলোকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

ইইউ তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পোস্টে জানায়, “অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক নির্বাচনের পথে বাংলাদেশের অগ্রগতি প্রশংসার যোগ্য। আগামী ফেব্রুয়ারির অংশগ্রহণমূলক, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে আমরা প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বকে স্বাগত জানাই।”

সংস্থাটি রাজনৈতিক দলগুলোকে গঠনমূলকভাবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে উৎসাহিত করে আরও যোগ করে, “বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্বের প্রতি আমাদের আস্থা রয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোকে পরবর্তী ধাপগুলোতে দায়িত্বশীলভাবে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানাই।”

ইইউর এই ঘোষণার পাশাপাশি, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) বাংলাদেশকে আশ্বস্ত করেছে যে ২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পরও প্রয়োজনীয় সমর্থন অব্যাহত থাকবে।

ডব্লিউটিওর উপমহাপরিচালক শিয়াংচেন ঝাং বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “বাংলাদেশ এলডিসি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পরও আমাদের কারিগরি সহায়তা পেতে থাকবে। বর্তমানে বাংলাদেশের বাণিজ্য সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য আমরা বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও সহায়ক উদ্যোগ পরিচালনা করছি, যা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”

তিনি আরও জানান, ডব্লিউটিও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে অংশীদারত্বে উন্নয়নশীল দেশের বাণিজ্য দক্ষতা জোরদার করার কাজ করে যাচ্ছে।

এনহ্যান্সড ইন্টিগ্রেটেড ফ্রেমওয়ার্ক (ইআইএফ)—যা এলডিসিভুক্ত দেশগুলোকে বৈশ্বিক বাণিজ্যে সক্রিয় অংশগ্রহণে সহায়তা করে—তা থেকেও বাংলাদেশ উপকৃত হতে থাকবে। ডব্লিউটিও জানায়, ইআইএফের তৃতীয় ধাপে রূপান্তর চলমান এবং এলডিসি থেকে উত্তরণের পরও বাংলাদেশ আরও পাঁচ বছর এই সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে।

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ও অর্থনৈতিক উত্তরণের প্রতি আন্তর্জাতিক মহলের এই দ্বিমুখী সমর্থন দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও বাণিজ্য সক্ষমতার জন্য ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন