সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
Logo

বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তর ও শিল্পায়নে চীনের প্রভাব বাড়ছে

ডেস্ক রিপোর্ট।।

বাংলাদেশের অবকাঠামো, প্রযুক্তি ও শিল্পখাতে চীনের উপস্থিতি দিন দিন শক্তিশালী হচ্ছে। পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ক শুধু বাণিজ্যই নয়, ডিজিটাল অর্থনীতি ও আধুনিক প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে।

চীনের জাতীয় পরিসংখ্যান দপ্তর প্রকাশিত ‘ডিজিটাল চায়না ডেভেলপমেন্ট’ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে—২০২৩ সালে দেশটির জিডিপির প্রায় ১০ শতাংশই এসেছে ডিজিটাল অর্থনীতি থেকে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনে এগিয়ে থাকা চীন এখন বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ প্রযুক্তি শক্তি।

বাংলাদেশ-চীন বাণিজ্যের পরিমাণ বর্তমানে প্রায় ২৮ বিলিয়ন ডলার, যার বড় অংশই আমদানি। বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের কাঁচামাল, বিদ্যুৎ খাতের সরঞ্জাম, যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তিপণ্য সরবরাহে চীনের ওপর নির্ভরতা ব্যাপক।
২০২০ সালে বাংলাদেশের ৯৭ শতাংশ পণ্যের জন্য চীন শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার দেওয়ায় দেশটির বাজারে নতুন রপ্তানি সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে।

হুয়াওয়ে, শাওমি, ভিভো, অপোসহ চীনা প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো বাংলাদেশের ডিজিটাল অবকাঠামো নির্মাণে বড় ভূমিকা রাখছে। ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক, স্মার্ট ডেটা সেন্টার, সিসিটিভি অবকাঠামো, ক্লাউড প্রযুক্তি—সব ক্ষেত্রেই চীনের প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে।

প্রযুক্তিবিদরা মনে করেন, বাংলাদেশের এআই রূপান্তরের জন্য গবেষণাধর্মী এআই ল্যাব, জাতীয় এআই কাউন্সিল এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় কোডিং-ডেটা সায়েন্স অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি। এতে ভবিষ্যতের প্রযুক্তিনির্ভর কর্মশক্তি তৈরি হবে।

চীনের প্রযুক্তি জায়ান্ট টেনসেন্ট বাংলাদেশে গেম ইন্ডাস্ট্রি গড়ে তুলতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। কোম্পানির এপিএসি অঞ্চলের প্রধান ইয়ে লার লাউ বলেন, “বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠী ও ডিজিটাল অবকাঠামো গেম শিল্পের জন্য বিশাল সম্ভাবনা তৈরি করেছে।”

বাংলাদেশের টেলিকম খাতের অধিকাংশ সরঞ্জামই চীন থেকে আসে। গ্রামীণফোন ছাড়া অন্য সব অপারেটর চীনা নেটওয়ার্ক ইকুইপমেন্ট ব্যবহার করে।
স্মার্টফোন বাজারেও অপো, ভিভো, শাওমি, টেকনো, রিয়েলমির মতো ব্র্যান্ডগুলো শীর্ষ অবস্থান দখল করে আছে। স্থানীয় উৎপাদন কারখানা চালু হওয়ায় দাম কমেছে এবং কর্মসংস্থান বেড়েছে।

বিশ্বের বৃহত্তম ইভি নির্মাতা বিওয়াইডি বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরুর পর ইভি বাজারে নতুন গতি এসেছে। এক চার্জে ১ হাজার কিলোমিটারের বেশি চলতে সক্ষম সিলায়ন ৬ মডেল জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। ইতিমধ্যে প্রতিষ্ঠানটি ২৫০টির বেশি ইউনিট বিক্রি করেছে।

২০২৫ সালের প্রথম তিন মাসে চীনা বিনিয়োগ আগের বছরের তুলনায় তিনগুণ বেড়েছে। বর্তমানে প্রায় ১ হাজারের বেশি চীনা কোম্পানি বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেছে।
গার্মেন্টস, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ইলেকট্রনিক্স, নির্মাণ ও আইসিটি—সব ক্ষেত্রেই চীনা কোম্পানির উপস্থিতি স্পষ্টভাবে বাড়ছে।

চট্টগ্রাম ইপিজেডে নতুন কারখানা, আনোয়ারায় ‘চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন’ এবং নারায়ণগঞ্জে ‘বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার’—সব মিলে দ্বিপাক্ষিক শিল্পায়ন পেয়েছে নতুন গতি।

বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বেজা ও ব্যবসায়ী নেতারা মনে করেন—চীনের প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ বাংলাদেশের শিল্পায়ন, রপ্তানি বাড়ানো, জ্বালানি নিরাপত্তা ও ডিজিটাল রূপান্তরে বড় ভূমিকা রাখছে।
বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক এখন বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও অবকাঠামোতে একটি “কৌশলগত বাস্তবতা”র প্রতীক।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন