জুলাই–আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এবং পুলিশের সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা হবে সোমবার (১৭ নভেম্বর)। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।
গত বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই তারিখ নির্ধারণ করে। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে বিচারপ্যানেলে আরও রয়েছেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
রায়ঘোষণা অনুষ্ঠানের সরাসরি সম্প্রচার করবে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ফেসবুক পেজেও লাইভ সম্প্রচার করা হবে।
মামলায় মোট তিনজন অভিযুক্তের মধ্যে সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন ‘অ্যাপ্রুভার’ (রাজসাক্ষী) হিসেবে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তিনি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। অন্যদিকে শেখ হাসিনা এবং আসাদুজ্জামান খান মামলায় পলাতক বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষ পাঁচদিনের যুক্তিতর্ক শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা পাঁচটি অভিযোগে সর্বোচ্চ দণ্ডের আবেদন করেছে। অন্যদিকে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীরা আসামিদের নির্দোষ দাবি করে খালাস প্রার্থনা করেছেন। রাজসাক্ষী মামুনের পক্ষ থেকেও খালাস চাওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও গাজী এমএইচ তামিমসহ অন্যান্য প্রসিকিউটররা।
আসামি শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন আইনজীবী মো. আমির হোসেন। রাজসাক্ষী মামুনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী যায়েদ বিন আমজাদ।
রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান আদালতের কাছে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি করে ন্যায়বিচারের আবেদন জানান।

