বিএনপি, জামায়াত বা নতুন কোনো শক্তির কারণে শেখ হাসিনার পতন হয়নি। বরং এটি ছিল আল্লাহর গজব, যা তার অসন্তুষ্টির ফলে এসেছে। এমন মন্তব্য করেছেন কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী।
রোববার (১৬ নভেম্বর) দুপুরে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর চলমান সংলাপে অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সংলাপে কাদের সিদ্দিকী নির্বাচন কমিশনকে তার সাংবিধানিক ক্ষমতা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, তফসিল ঘোষণার পর ইসি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ হিসেবে কাজ করে এবং সরকারেরও ওপর অবস্থান করে। জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার দায়িত্ব কমিশনকে যথাযথভাবে পালন করতে হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সভায় তিনি জানান, গত ১৫ মাস ধরে সরকারের সঙ্গে কোনো আলোচনায় যাননি এবং নির্বাচন পর্যন্তও কোনো আলোচনায় অংশ নেবেন না। তার ভাষ্য, “নির্বাচনের আগ পর্যন্ত সরকারের আলোচনার আহ্বানে সাড়া দেওয়ার প্রশ্নই আসে না।”
গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন একই দিনে আয়োজনের সিদ্ধান্তকে ‘বড় ধরনের অসঙ্গতি’ আখ্যায়িত করে কাদের সিদ্দিকী বলেন, গণভোটে যদি বিপুলসংখ্যক ভোটার অংশগ্রহণ না করেন, তবে পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়া হুমকির মুখে পড়তে পারে। অতীতে নির্বাচন কমিশন সরকারের ইচ্ছানুযায়ী কাজ করেছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
ইসলামপন্থি দলগুলোকে সম্মান জানালেও জামায়াতে ইসলামীর প্রতি তার অবস্থান কেন কঠোর— তা ব্যাখ্যা করে কাদের সিদ্দিকী বলেন, “তারা মুক্তিযুদ্ধে বিরুদ্ধাচরণের জন্য ক্ষমা চাইলে সম্মান পেত।”
এসময় তিনি মন্তব্য করেন, “আমাকে হত্যা করা হতে পারে, কিন্তু মিথ্যা বলানো যাবে না।”
ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন যদি জনগণকে ভোট দিতে পারে, বাংলাদেশ সুইজারল্যান্ডের চেয়েও শান্ত দেশ হয়ে উঠতে পারে। টানা নির্বাচন অভিজ্ঞতার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, কিছু কেন্দ্রে সিল করা ফলাফলে অস্বাভাবিক পার্থক্য দেখা গেছে।
সরকার দেশকে বিভক্ত করেছে দাবি করে তিনি বলেন, “শেখ হাসিনার পতন হলেও স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে কেউ নস্যাৎ করতে পারবে না।”
এ সময় নতুন একটি রাজনৈতিক শক্তি—এনসিপি—সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “তারা মুক্তিযুদ্ধ ও জাতীয় ইতিহাসের মৌলিক অধ্যায়গুলো অস্বীকার করছে।”
কাদের সিদ্দিকী বলেন, “সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটারকে বাইরে রেখে নির্বাচন করলে গ্রহণযোগ্য ভোট হবে না। কিছু শক্তি নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করতে পারে; ইসিকে সেদিকে নজর রাখতে হবে।”

