জুলাই-আগস্ট ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এবং সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।
বেলা ১২টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
রায়ে বলা হয়েছে, আসামিরা ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান দমন এবং নিরীহ নাগরিকদের উপর আক্রমণের ঘটনায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। পাঁচটি মূল অভিযোগের মধ্যে রয়েছে আন্দোলন দমন ও প্ররোচনার নির্দেশ প্রদান,রাজধানী ও জেলা অঞ্চলে হত্যাকাণ্ডে অংশগ্রহণ,উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান এবং হত্যা ও অঙ্গহানির পরিকল্পনা করা।
মামলার প্রথম শুনানি গত বছরের ১৭ অক্টোবর শুরু হয়। প্রাথমিকভাবে শুধুমাত্র শেখ হাসিনা ছিলেন আসামি। পরে চলতি বছরের ১৬ মার্চ আইজিপি আবদুল্লাহ আল-মামুন এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের নাম যুক্ত হয়। মামলায় মোট ৫৪ জন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে, যার মধ্যে আহত ও প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান অন্তর্ভুক্ত।
প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্ক ও প্রমাণের ভিত্তিতে ট্রাইব্যুনাল দোষ প্রমাণিত হয়েছে বলে জানিয়েছে। রায়ের সময় জানানো হয়েছে, এটি দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো প্রধানমন্ত্রী মানবতাবিরোধী অপরাধের রায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।
রায় ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে দেশের গণমাধ্যম এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এ বিষয়ে সরাসরি মনোযোগ দিয়েছেন। ট্রাইব্যুনাল জানিয়েছে, এ রায় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি দায়বদ্ধতার এক গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হবে।

