চট্টগ্রাম বন্দরের বহুল আলোচিত লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল (এলসিটি) প্রকল্পে ৩০ বছরের কনসেশন চুক্তি স্বাক্ষর করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও ডেনমার্কভিত্তিক গ্লোবাল অপারেটর এপিএম টার্মিনালস। সোমবার (১৭ নভেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়।
স্বাক্ষরের আগে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও পিপিপি কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকল্পটি নিয়ে জনমানুষের নানা প্রশ্নের উত্তর দেন।
আশিক চৌধুরী জানান, বাংলাদেশের বন্দর ব্যবস্থাপনায় মূল সমস্যাই হলো দীর্ঘ সময়ের জট ও দুর্নীতি। ভিয়েতনামসহ উন্নয়নশীল দেশগুলো বৈশ্বিক অপারেটরদের মাধ্যমে প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক বন্দর পরিচালনা করে দ্রুত উন্নতি করেছে। সেখানে কাই মেপ বন্দর এখন বিশ্বের ৭ম স্থানে। অথচ চট্টগ্রাম বন্দর ৪০৫টির মধ্যে অবস্থান করছে ৩৩৪তম স্থানে।
তার মতে, দক্ষ গ্লোবাল অপারেটর যুক্ত হলে প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে।
তিনি স্পষ্ট করে জানান—টার্মিনালের মালিকানা বাংলাদেশের কাছেই থাকবে। ডেনমার্কের এপিএম টার্মিনালসই বিনিয়োগ করে টার্মিনাল নির্মাণ করবে; তিন বছর পর পরিচালনার দায়িত্ব নিলেও ৩০ বছর শেষে সব হস্তান্তর করবে বাংলাদেশকে।
এটি এপি মোলার-মেয়ার্স্ক গ্রুপের অধীনস্থ প্রতিষ্ঠান, যারা বিশ্বের ৩৩ দেশে ৬০টিরও বেশি টার্মিনাল পরিচালনা করছে। শীর্ষ ২০ বন্দর-এর মধ্যেও তাদের পরিচালিত বন্দর রয়েছে ১০টি।
এপিএম টার্মিনালস সম্পূর্ণ বিনিয়োগ করবে—মোট প্রায় ৬,৭০০ কোটি টাকা।
সরকার কোনো গ্যারান্টি দিচ্ছে না।
প্রতিটি কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের জন্য বাংলাদেশ একটি নির্দিষ্ট ফি পাবে।
ন্যূনতম ভলিউম নিশ্চিতে “মিনিমাম গ্যারান্টি” ধারা রয়েছে।
রেগুলেটর হিসেবে থাকবে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।
৩০ বছর মেয়াদ পিপিপি প্রকল্পে মাঝারি ধরা হয়। অন্যান্য দেশের তুলনায় এটি কম—ভারতে অনুরূপ প্রকল্পে মেয়াদ ৬০ বছর, ভিয়েতনামে ৫০ বছর।
সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী গোপনীয় তথ্য প্রকাশ করলে ভবিষ্যৎ দরপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশ্বব্যাংক ও এডিবি-ও সম্পূর্ণ দলিল প্রকাশ না করে সারাংশ প্রকাশের পক্ষপাতী।
আশিক চৌধুরী জানান, জি-টু-জি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে PQ, টেকনিক্যাল ও ফিনান্সিয়াল মূল্যায়নসহ সব ধাপ অডিটযোগ্যভাবে সম্পন্ন হয়েছে। আন্তর্জাতিক পরামর্শক, আইনজীবী ও আন্ত মন্ত্রণালয় কমিটি প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেছে।
তার মতে, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, ইমিগ্রেশন ও কাস্টমসের সব নিরাপত্তা প্রটোকল অপরিবর্তিত থাকবে। ডেটা লোকালাইজেশন ও সাইবার নিরাপত্তা কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে।
বছরে ৮ লাখ TEU অতিরিক্ত কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা
দ্বিগুণ বড় জাহাজ নোঙরের সুযোগ
আমদানি-রপ্তানি দ্রুত হবে
পণ্যের পরিবহন ব্যয় কমবে
স্থানীয় পর্যায়ে ৫০০–৭০০ কর্মসংস্থান
প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনবল তৈরি
প্রথম পরিবেশবান্ধব ‘গ্রীন পোর্ট’ প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা
আশিক চৌধুরীর দাবি, যারা অতীতে বন্দরকে কেন্দ্র করে অনিয়মের সুবিধা নিয়েছেন অথবা পিপিপি বিষয়ে না জেনে মন্তব্য করছেন—তাঁরাই বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন।

