আশুলিয়ায় গত বছরের ৫ আগস্ট ছয় তরুণকে গুলি করে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার মামলায় রাজসাক্ষী শেখ আবজালুল হক ট্রাইব্যুনালের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। ঘটনার জবানবন্দি দেওয়ার পর তিনি বলেন, “শহীদদের জন্য কিছু করতে না পারায় ক্ষমা প্রার্থনা করছি।”
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২–এ চলমান আশুলিয়া হত্যাকাণ্ড মামলার শুনানিতে বুধবার (১৯ নভেম্বর) গুরুত্বপূর্ণ জবানবন্দি দিয়েছেন রাজসাক্ষী শেখ আবজালুল হক। সাক্ষ্য শেষে তিনি নিহত ছয় তরুণের পরিবার ও আদালতের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
বিচারপতি মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের প্যানেলে তিনি মামলার ২৩ নম্বর সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন। মামলাটি ২০২৩ সালের ৫ আগস্ট আশুলিয়ায় ছয় তরুণকে গুলি করে পুলিশ ভ্যানে তুলে পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা হয়েছে।
জবানবন্দিতে আবজালুল জানান, ঘটনার দিন তিনি উপস্থিত না থাকলেও ১৫ আগস্ট থানায় অস্ত্র জমা দিতে গিয়ে জানতে পারেন—তৎকালীন ওসি সায়েদ ও এএসআই বিশ্বজিৎ ছয়টি মরদেহ পেট্রোল ঢেলে আগুনে পোড়ান। এই নির্মমতার কথা জানার পর থেকেই তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং আদালতে সত্য প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেন।
মামলার আট গ্রেপ্তার আসামির মধ্যে এসআই আবজালুল একমাত্র ব্যক্তি, যিনি দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হওয়ার আবেদন করেছিলেন। আদালত তার স্বীকারোক্তির অংশটি রেকর্ড করে তাকে সাক্ষী হওয়ার অনুমতি দেয়।
গত ২১ আগস্ট ট্রাইব্যুনাল আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করে।২২ নম্বর সাক্ষী প্রত্যক্ষদর্শী শাহরিয়ার হোসেন সজিব এর আগে আদালতে জানান, তার সামনেই একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান এবং তার বন্ধু সজলকেও আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়।গুলিবিদ্ধ ভুক্তভোগী সানি মৃধা, নিহতদের পরিবার ও পুলিশ সদস্যদের সাক্ষ্যও ইতোমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে।
এ মামলায় গ্রেপ্তার আটজন হলেন:
সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহিল কাফী, শাহিদুল ইসলাম, পরিদর্শক আরাফাত হোসেন, এসআই মালেক, এসআই আরাফাত উদ্দিন, এএসআই কামরুল হাসান, এসআই আবজালুল, এবং কনস্টেবল মুকুল।
সাবেক এমপি সাইফুল ইসলামসহ আটজন এখনো পলাতক।
২০২৩ সালের ৫ আগস্ট আশুলিয়ায় পুলিশের গুলিতে ছয় তরুণ নিহত হন। পরে তাদের লাশ পুলিশ ভ্যানে তোলা হয় এবং পেট্রোল ঢেলে আগুনে পোড়ানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি—একজন তখনও জীবিত ছিলেন, তাকেও জীবন্ত আগুনে হত্যা করা হয়। ওই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর ঘটনাটিকে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ আখ্যা দিয়ে ট্রাইব্যুনালে মামলা করা হয়।

