চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্কে কিছু স্থানীয় গণমাধ্যমের অবস্থান ‘উদ্বেগজনকভাবে অস্পষ্ট’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তার মতে, বেশ কিছু সংবাদমাধ্যম যুক্তির চেয়ে উত্তেজনাকে প্রাধান্য দিচ্ছে এবং এমন ব্যক্তিদের বক্তব্য প্রচার করছে, যাদের বন্দর পরিচালনা বা পিপিপি চুক্তি সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান নেই।
বুধবার (১৯ নভেম্বর) তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
স্ট্যাটাসে শফিকুল আলম অভিযোগ করেন, কয়েকটি মিডিয়া প্রতিষ্ঠান বামপন্থি লেখক ও কর্মীদের মতামতকে বিশেষভাবে প্রচার করছে, যা সার্বভৌমত্ব ও মালিকানা নিয়ে পুরোনো বিতর্ককে আবার সামনে নিয়ে আসছে। অথচ বিশ্বমানের বন্দর ব্যবস্থাপনা ও যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, চীন, তুরস্ক ও ইউরোপের বড় বন্দরগুলো কীভাবে পরিচালিত হয়—এসব বিষয়ে জানেন এমন বিশেষজ্ঞদের মতামত খুব কম গুরুত্ব পাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বিতর্কে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক দিকগুলো—বাংলাদেশের উৎপাদন খাতের ভবিষ্যৎ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগের সম্ভাবনা—এসব বিষয়ে আলোচনার ঘাটতি রয়েছে। তার দাবি, বামমুখী লেখকদের একাধিক লেখা ও বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রাধান্য পেলেও এসব বিষয়ে তারা খুব কমই আলোকপাত করছেন।
প্রেস সচিব আরও উল্লেখ করেন, বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সফল বন্দর ব্যবস্থাপনার শত শত উদাহরণ থাকা সত্ত্বেও কিছু সংবাদমাধ্যম শুধুমাত্র জিবুতির ব্যতিক্রমী ঘটনার উদাহরণ তুলে ধরে বিদেশি অপারেটরের বিরুদ্ধে জনমত গঠনের চেষ্টা করছে।
তার ভাষায়, দীর্ঘদিন দক্ষতার ঘাটতির অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রবণতাও লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
নিজের পোস্টে শফিকুল আলম সতর্ক করে বলেন, বিষয়টি কেবল বন্দর পরিচালনার নয়—বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান, উৎপাদন সক্ষমতা ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির সঙ্গে এ বিতর্ক জড়িত। যুক্তির ভিত্তিতে স্বচ্ছ আলোচনা হওয়া প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
শেষে তিনি যোগ করেন, যদি কিছু গণমাধ্যম যুক্তিহীন মতামতকে বারবার তুলে ধরে এবং বিশেষজ্ঞদের মতামতকে উপেক্ষা করে, তাহলে এর উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক।

