বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহাল: আপিল বিভাগের ঐতিহাসিক রায়

ডেস্ক রিপোর্ট।।

দেশের বহুল আলোচিত নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলসংক্রান্ত পূর্ববর্তী রায় অবৈধ ঘোষণা করেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীকে বৈধ ঘোষণা করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের ঘোষণা দেন আদালত।

বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে সাত সদস্যের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ এ গুরুত্বপূর্ণ রায় প্রদান করেন। বেঞ্চে আরও উপস্থিত ছিলেন বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম, বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, বিচারপতি মো. রেজাউল হক, বিচারপতি এসএম ইমদাদুল হক, বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি ফারাহ মাহবুব।

রায় ঘোষণার সময় আদালতকক্ষ আইনজীবী ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে উপচে পড়া জনসমাগমে পূর্ণ হয়ে ওঠে।

রায়ে বলা হয়েছে, সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফিরে এলেও আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে। পরবর্তী চতুর্দশ জাতীয় নির্বাচনে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা কার্যকর হবে।
সাত বিচারপতি সর্বসম্মত মতামতের ভিত্তিতে রায় প্রদান করেন।

গত ১১ নভেম্বর মামলার শুনানি সম্পন্ন হয় এবং ২০ নভেম্বর রায় ঘোষণার দিন ধার্য করা হয়েছিল। অক্টোবর–নভেম্বর জুড়ে মোট ১০ দিন ধরে টানা শুনানি শেষে মামলাটির রায় ঘোষণা করা হলো।

রিটকারী পক্ষে শুনানি করেন ড. শরীফ ভূঁইয়া, বিএনপির পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী জয়নুল আবেদীন ও ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক।

১৯৯৬ সালে সংসদে পাশ হওয়া সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা যুক্ত হয়। এ সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ১৯৯৮ সালে রিট দায়ের হলে ২০০৪ সালে হাইকোর্ট তা খারিজ করে বৈধ ঘোষণা করেন। পরে ২০০৫ সালে আপিল বিভাগে আপিল করা হলে ২০১১ সালে সংখ্যাগরিষ্ঠ রায়ে ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করা হয়।
পরে পাস হয় পঞ্চদশ সংশোধনী, যার মাধ্যমে সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক পদ্ধতি বাদ দেওয়া হয়।

সরকার পরিবর্তনের পর ২০২৩–২০২৪ সালে ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচজন নাগরিক, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ বেশ কয়েকজন রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন। এসব আবেদনের পর আপিল বিভাগ পুনরায় শুনানির অনুমতি দেয় এবং শেষ পর্যন্ত ঐতিহাসিক এ রায় ঘোষণা করে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন