জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে আয়োজনের ঘোষণা দেওয়ার পর নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে স্পষ্ট ও লিখিত কর্মপরিকল্পনা দাবি করেছে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)সহ সংলাপে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলো।
দলগুলো বলছে, একসঙ্গে দুটি ভোট আয়োজনের সক্ষমতা ও আচরণবিধি বাস্তবায়নে ইসির প্রস্তুতি এখনও পরিষ্কার নয়।
বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ইসির ধারাবাহিক সংলাপের চতুর্থ দিন অনুষ্ঠিত হয়। এদিন ১৩টি দল সংলাপে অংশ নেয়।
সংলাপে বিভিন্ন দল তাদের উদ্বেগ ও প্রস্তাব তুলে ধরে। সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—
-
বিএনপি: ডিসিদের বাদ দিয়ে ইসির নিজস্ব কর্মকর্তা দিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ।
-
জামায়াতে ইসলামী: তফসিল ঘোষণার পর লটারির মাধ্যমে ডিসি–এসপিদের একযোগে রদবদল।
-
এনসিপি: আচরণবিধির অসংগতি এবং একই দিনে দুই ভোট নেয়ার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন।
-
গণসংহতি আন্দোলন: একই দিনে ভোট হলে আলাদা বুথ ব্যবস্থার দাবি।
-
অন্যান্য দল: আচরণবিধি সংশোধন, পোস্টার নিষেধাজ্ঞা, ছোট দলের প্রচার–সুবিধা, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা, কালো টাকার দৌরাত্ম্য ও নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে মতামত।
বেশ কয়েকটি দল ইসির কাছে জানতে চায়—
-
গণভোট কীভাবে পরিচালিত হবে,
-
ভোটারদের সচেতন করতে ইসি কী করবে,
-
দুই ধরনের ব্যালট পরিচালনার সক্ষমতা কেমন,
-
জুলাই সনদ নিয়ে ভোটারদের স্পষ্ট ধারণা কে দেবে।
জামায়াতের মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট হলে ভোটার বিভ্রান্ত হতে পারে।”
কয়েকটি দল অভিযোগ করে যে, সাম্প্রতিক ডিসি–এসপি বদলির মধ্যে ‘পরিকল্পিত প্রভাব’ থাকতে পারে। বিএনপি দাবি করে, ইসির নিজস্ব কর্মকর্তাদের অধিক দায়িত্ব দিলে নির্বাচন আরও নিরপেক্ষ হবে।
অনেকে জনপ্রশাসন, পুলিশ ও মাঠ কর্মকর্তাদের লটারির মাধ্যমে বদলি করার প্রস্তাবও দেয়।
দলগুলো অভিযোগ করে—
-
ইসির আচরণবিধিতে অস্পষ্টতা আছে,
-
লঙ্ঘনের শাস্তির প্রক্রিয়া পরিষ্কার নয়,
-
পোস্টার নিষেধাজ্ঞা ছোট দলগুলোর জন্য ক্ষতিকর,
-
দলীয়প্রধান ছাড়াও প্রচারে অন্য নেতার ছবি ব্যবহারের সমস্যা বাড়বে।
এনসিপি ও গণসংহতি আন্দোলন অভিযোগ করে যে, দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই ইসির আচরণবিধি সংশোধন করা হয়েছে।
অন্যান্য প্রস্তাব
-
অস্ত্র উদ্ধার অভিযান,
-
বৈধ অস্ত্র জমা নেওয়া,
-
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার ঠেকাতে টিকটক–মেটার সঙ্গে সমন্বয়,
-
সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা হলে তাৎক্ষণিক প্রার্থিতা বাতিল,
-
ভোটিং টেকনোলজি বদলে অ্যাপ–ভিত্তিক ফিঙ্গারপ্রিন্ট ভোটিং।
সংলাপের শুরু ও শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন—
“বাস্তবতা উপেক্ষা করে এগোনো যাবে না। আমরা ধীরেসুস্থে এগোচ্ছি। সুন্দর ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন আমাদের প্রতিশ্রুতি।”
তিনি জানান, একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের ঘোষণার পরও তারা গণভোট আইন হওয়ার অপেক্ষায় আছেন। আইন হলেই ইসি আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করবে।

