চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনা সংক্রান্ত চুক্তি নিয়ে চলমান প্রক্রিয়ায় আপাতত স্থবিরতা নেমে এসেছে। রিট নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রাখতে মৌখিক নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) বিচারপতি ফাতেমা নজীবের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ নির্দেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত চুক্তি-সম্পর্কিত কোনো পদক্ষেপ সরকার নেবে না।
এনসিটি বিদেশি কোম্পানির মাধ্যমে পরিচালনা সংক্রান্ত চুক্তি–প্রক্রিয়ার বৈধতা প্রশ্নে জারি করা রুলের ওপর পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২৫ নভেম্বর দিন রেখেছে হাইকোর্ট। অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক আদালতকে আশ্বস্ত করে বলেন, ওই দিন পর্যন্ত চুক্তি চূড়ান্ত করার কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে না।
গত ৩০ জুলাই বিদেশি একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এনসিটি পরিচালনার জন্য চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের করা চুক্তি ও এর প্রক্রিয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদন করেন বাংলাদেশ যুব অর্থনীতিবিদ ফোরামের সভাপতি মির্জা ওয়ালিদ হোসাইন। এরপর হাইকোর্ট রুল জারি করে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চান।
রিট আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন এবং ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
আবেদনকারী পক্ষের আইনজীবী আহসানুল করিম গণমাধ্যমকে বলেন, ১৩ নভেম্বর রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে জানিয়েছিল যে শুনানি শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে না। কিন্তু এরপরই চুক্তি–প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে একটি মূল্যায়ন কমিটি গঠনের প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। বিষয়টি আদালতের নজরে আনা হলে হাইকোর্ট অসন্তোষ প্রকাশ করে এবং চুক্তি–সম্পর্কিত কোনো কার্যক্রম এগিয়ে না নিতে মৌখিকভাবে নির্দেশ দেন।
অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক আদালতকে জানান, রিট নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এনসিটি চুক্তি–সম্পর্কিত কোনো নতুন উদ্যোগ নেওয়া হবে না এবং সরকার স্থিতাবস্থা বজায় রাখবে।

