ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে অনুভূত ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্পের তীব্র ঝাঁকুনিতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে। অফিস, বাসাবাড়ি থেকে অনেকে রাস্তায় নেমে আসেন। সামাজিকমাধ্যমে মুহূর্তেই ভয়ের অভিজ্ঞতা জানাতে থাকেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে শোবিজ অঙ্গনের তারকারাও।
জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ইমরান মাহমুদুল ফেসবুকে লিখেছেন—
“আল্লাহ, জীবনে এত বড় ভূমিকম্প প্রথমবার অনুভব করলাম। আল্লাহ সবাইকে হেফাজত করো।”
অভিনেতা কচি খন্দকার জানান—
“গভীর ঘুম থেকে ভূমিকম্প জাগিয়ে দিলো। ভয়াবহতা শব্দে বর্ণনা করা সম্ভব নয়। মানবিকতার সময় এখনই।”
অভিনেতা আব্দুন নূর সজল লেখেন—
“এটা কি! ভূমিকম্প! আল্লাহ সবাইকে রক্ষা করুন।”
রওনক হাসান লিখেছেন—
“ওরে ঝাঁকি! এ কি ভূমিকম্প! সবাই ঠিক আছেন তো?”
অভিনেতা রাশেদ মামুন অপু নিজের রোমহর্ষক অভিজ্ঞতা জানিয়ে লিখেছেন—
তিনি বসে ছিলেন মেঝেতে, হঠাৎ চারপাশ ভেঙে পড়ছে মনে হয়। কাঁচের জানালা ও আসবাব ঝনঝন করে উঠলে তিনি ছুটে যান সন্তানদের খোঁজে।
“মনে হচ্ছিল আর বাচ্চাদের মুখ দেখতে পারব না। আলহামদুলিল্লাহ, তারা ভালো আছে।”—লেখেন অপু।
অভিনেত্রী সামান্তা পারভেজ লিখেছেন—
“তাও মানুষ আল্লাহকে ভয় পায় না, আল্লাহর গজবকে পাত্তা দেয় না। ভূমিকম্পের কেন্দ্রবিন্দু ছিল ঘোড়াশাল, নরসিংদী—আমার এলাকা।”
জনপ্রিয় ব্যান্ড শিরোনামহীন লিখেছে—
“প্রচণ্ড ভূমিকম্প। আল্লাহ আমাদের রক্ষা করুন। তাঁর দয়া ছাড়া ঢাকাকে টিকিয়ে রাখা কঠিন।”
লোকশিল্পী কুদ্দুস বয়াতি জানান—
“এই প্রথম এত বড় ঝাঁকুনি অনুভব করলাম।”
অভিনেতা ফারুক আহমেদ জানান, তিনি ছিলেন ৫ম তলায়—
“হঠাৎ বিল্ডিং কাঁপতে শুরু করল, পাশের ভবন দোলনার মতো দুলছিল। মনে হচ্ছিল পুরো ভবন ভেঙে পড়বে। জীবনে এত তীব্র ভূমিকম্প আর পাইনি।”
অভিনেত্রী বর্ষা নিজের ধর্মীয় অনুভূতির সঙ্গে লিখেছেন—
“আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর রহমত না হলে আরও কয়েক সেকেন্ডেই বড় বিপর্যয় হতো। সূরা যিলযালে এমন দৃশ্যের কথা বলা আছে। সেই দিন খুব দূরে নয়।”
আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, সকাল ১০টা ৩৮ মিনিট ২৬ সেকেন্ডে ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়। কেন্দ্র ছিল নরসিংদীর মাধবদী, মাত্রা ৫.৭। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ভবন হেলে পড়া, দেয়ালে ফাটলসহ ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।

