বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

৩ প্লেট ও ৬ ফল্টের কারণে হচ্ছে ভূমিকম্প, কোনটি কোন অঞ্চলে

ডেস্ক রিপোর্ট।।

ঢাকা, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অনুভূত শক্তিশালী ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন কয়েকশ মানুষ। শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে অনুভূত হওয়া ভূকম্পনটিকে সাম্প্রতিক দশকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে তীব্র বলে মনে করছেন ভূতাত্ত্বিকরা। নরসিংদীর মাধবদীতে এর মাত্রা রিখটার স্কেলে ৫.৭ রেকর্ড করা হয়।

মাত্র ২৪ ঘণ্টা না পেরোতেই একই এলাকায় আবারও ভূমিকম্প। শনিবার (২২ নভেম্বর) সকাল ১০টা ৩৬ মিনিটে ৩.৩ মাত্রার আরেকটি কম্পন মাধবদী অঞ্চলে রেকর্ড করা হয়। পরে দিনজুড়ে আরও কয়েক দফা হালকা ভূকম্প অনুভূত হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

অব্যাহত কম্পনের পর বাংলাদেশের ভূতাত্ত্বিক গঠন—তিনটি সক্রিয় প্লেট ও ছয়টি প্রধান ফল্ট লাইন নিয়ে আলোচনা ফের তীব্র হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিকভাবে বিশ্বের অন্যতম জটিল অঞ্চলে অবস্থান করছে।

দেশটি মূলত ইন্ডিয়ান প্লেট, ইউরেশিয়ান প্লেট ও বার্মা মাইক্রোপ্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত; আর এসব প্লেটের চাপই বড় ধরনের ভূমিকম্পের ঝুঁকি তৈরি করে।

পৃথক পৃথক অঞ্চলে বিস্তৃত দেশের অন্যতম সক্রিয় ফল্টগুলো হলো—

১. ডাউকি ফল্ট (সিলেট–মেঘালয়)
  • প্রকৃতি: থ্রাস্ট ফল্ট

  • সম্ভাব্য ঝুঁকি: এম ৭–৮ মাত্রার বড় ভূমিকম্প

  • প্রভাবিত অঞ্চল: সিলেট, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা ও মৌলভীবাজার

২. মধুপুর ফল্ট (টাঙ্গাইল–ময়মনসিংহ–ঢাকা করিডোর)
  • সম্ভাব্য ঝুঁকি: এম ৬.৫–৭

  • ঢাকায় ব্যাপকভাবে অনুভূত হওয়ার আশঙ্কা

  • প্রভাবিত এলাকা: টাঙ্গাইল, গাজীপুর, ঢাকা, কিশোরগঞ্জ

৩. চট্টগ্রাম ফোল্ড বেল্ট ফল্টস
  • প্রকৃতি: বহু সক্রিয় ক্রাস্টাল ফল্ট

  • প্রভাবিত এলাকা: চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, কক্সবাজার

৪. ইন্দো–বার্মা মেগাথ্রাস্ট
  • বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক সাবডাকশন জোন

  • সম্ভাব্য মাত্রা: এম ৮.৫ বা এর বেশি

  • বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চল ঝুঁকিতে: কক্সবাজার, বান্দরবান, নোয়াখালীসহ কয়েক জেলা

৫. শিলং প্লাটো ফল্ট
  • ঐতিহাসিক ১৮৯৭ সালের ভূমিকম্পের উৎস

  • ঝুঁকিতে সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা

৬. তিস্তা ও গঙ্গা লাইনামেন্ট
  • তুলনামূলক কম ঝুঁকি

  • উত্তরাঞ্চল: রংপুর, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও

অব্যাহত ক্ষুদ্র কম্পনগুলো বড় ভূমিকম্পের পূর্বাভাস হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, প্লেটগুলো যে গতিতে শক্তি সঞ্চয় করছে—তা ভবিষ্যতে বড় ধরনের ভূকম্প ঘটাতে পারে।

এদিকে সাধারণ মানুষ এখনো ভীত–সন্ত্রস্ত। ভবনের সুরক্ষা, দুর্যোগ প্রস্তুতি ও আধুনিক ভূমিকম্প ঝুঁকি নিরূপণ নিয়ে এখনই জাতীয় পর্যায়ে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ভূতাত্ত্বিকরা।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন