বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

মেজর সিনহার পাজরে পা দিয়ে চেপে ধরে মৃত্যু নিশ্চিত করেন ওসি প্রদীপ

ডেস্ক রিপোর্ট।।

কক্সবাজারের টেকনাফে মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে বরখাস্ত ওসি প্রদীপ কুমার দাসই মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন বলে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ে উঠে এসেছে। রোববার (২৩ নভেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ৩৭৮ পৃষ্ঠার রায়ে ঘটনাটিকে ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ার পর প্রদীপ ঘটনাস্থলে গিয়ে সিনহার বাম বুকে পা দিয়ে চাপ প্রয়োগ করেন, যাতে তিনি নিশ্চিতভাবে মারা যান। এ সময় এসআই লিয়াকত আলী সরকারি পিস্তল থেকে পরপর চারটি গুলি ছোড়েন, যা সিনহার শরীরের উপরের অংশে লাগে।

২০ নভেম্বর প্রকাশিত মূল রায়ে প্রদীপ ও লিয়াকত আলীর মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন হাইকোর্ট বেঞ্চ। একই সঙ্গে আরও ছয়জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডও বহাল থাকে। বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও বিচারপতি মো. সগির হোসেন এ রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপিতে স্বাক্ষর করেন।

২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাত সাড়ে ৯টায় কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন মেজর (অব.) সিনহা। পাঁচ দিন পর নিহতের বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস আদালতে মামলা দায়ের করেন। পরে র‌্যাব তদন্ত করে একই বছরের ১৩ ডিসেম্বর ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট জমা দেয়।

২০২২ সালের ৩১ জানুয়ারি কক্সবাজার জেলা ও দায়রা আদালত প্রদীপ ও লিয়াকতকে মৃত্যুদণ্ড দেন, একই রায়ে আরও ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। সাত আসামি খালাস পান।

ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে পৌঁছানোর পর দণ্ডিত আসামিরা আপিল করেন। পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর আইনজীবীরা বলছেন, এখন মামলাটি আপিল বিভাগে নিষ্পত্তির জন্য যাবে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন