বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

গত ২৪ ঘণ্টায় ৯০ বারের বেশি ভূমিকম্প

ডেস্ক রিপোর্ট।।

বাংলাদেশে দু’দিনে ধারাবাহিক ভূমিকম্পের পর বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা। শুক্রবারের ৫.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর মাত্র আট ঘণ্টার ব্যবধানে শনিবার রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় তিন দফা কম্পন অনুভূত হয়। বিষয়টিকে ‘উদ্বেগজনক’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবাইয়াত কবির।

তিনি শুক্রবার দুপুরে গণমাধ্যমকে বলেন, ঘন ঘন ছোট কম্পন বড় ভূমিকম্পের পূর্বাভাস হতে পারে, তাই সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

শনিবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে প্রথম মৃদু ভূমিকম্পটি (৩.৩ মাত্রা) অনুভূত হয় নরসিংদীর পলাশ এলাকায়। এরপর সন্ধ্যায় আরও দু’টি—৬টা ৬ মিনিটে ৩.৭ মাত্রার এবং এক সেকেন্ড পর ৪.৩ মাত্রার কম্পন রেকর্ড হয়।
এর ঠিক আগের দিন, শুক্রবার সকালে ৫.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে ঢাকা, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জে মোট ১০ জনের মৃত্যু এবং ৬০০ জনের বেশি আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। আতঙ্কে ভবন থেকে লাফ দেওয়ার সময়, ভবনের ফাটল ও হেলে পড়া—এসব কারণে হতাহতের সংখ্যা বাড়ে।

ভূকম্পবিদরা বলছেন, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ মূলত তিনটি ভূমিকম্প ঝুঁকিপূর্ণ জোনে বিভক্ত

জোন-১: সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ,জোন-২: মাঝারি ঝুঁকি,জোন-৩: তুলনামূলক কম ঝুঁকি।

বুয়েটের ভূমিকম্পবিজ্ঞানী ড. মেহেদী আহমেদ আনসারী বলেন, “বাংলাদেশ বহু বছর ধরেই ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে। এখনকার ঘনঘন কম্পন বড় ধরনের ভূমিকম্প উসকে দিতে পারে।”

ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট আর্থকোয়াকট্র্যাকার জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বে ৯১টি ভূমিকম্প রেকর্ড হয়েছে। গত সাত দিনে রেকর্ড হয়েছে ৮৫২টি কম্পন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্পের বারবার পুনরাবৃত্তি ভূত্বকের চাপ বাড়ার ইঙ্গিত দেয়। তাই ভবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জরুরি ব্যাগ তৈরি রাখা এবং ভূমিকম্পে কীভাবে নিজেকে রক্ষা করা যায়—এসব বিষয়ে সাধারণ মানুষের সচেতনতা জরুরি।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন