বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

আবুল সরকারকে গ্রেফতার করা মানে আমাকে গ্রেফতার করা: ফরহাদ মজহার

ডেস্ক রিপোর্ট।।

বাউলশিল্পী আবুল সরকারের গ্রেফতারে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বিশিষ্ট চিন্তক ও কবি ফরহাদ মজহার বলেছেন, আবুল সরকারকে গ্রেফতার করা মানেই তাকে গ্রেফতার করা। তিনি দাবি করেন, শিল্পী আবুল সরকার দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন আন্দোলন ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচিতে তার সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।

সোমবার (২৪ নভেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আবুল সরকারের মুক্তির দাবিতে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এসব মন্তব্য করেন। ‘সাধু গুরুভক্ত ও অলি-আওলিয়া আশেকান পরিষদ’ এই সমাবেশের আয়োজন করে।

ফরহাদ মজহার বলেন, “ব্যক্তির অধিকার, অসীম মর্যাদা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য আমরা গণ-অভ্যুত্থানের সময়ে যে বার্তা দিয়েছি, তা এখনো অটল। অথচ ৫ আগস্টের পর এই অধিকারগুলো ধারাবাহিকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে। আমরা একসময় যে ফ্যাসিস্ট শক্তির উত্থান দেখেছি, এখন তারই আরেক রূপ—ধর্মীয় ফ্যাসিজম—সমাজে বিস্তার লাভ করছে।”

মাজার ভাঙার ঘটনাকে ধর্মীয় ফ্যাসিবাদী আচরণ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, এ ধরনের প্রবণতা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে হুমকির মুখে ফেলছে। তার দাবি, সরকারের প্রতি করা তাদের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করা হয়েছে, বরং তার ব্যক্তিগত বিরুদ্ধেও নানা অপপ্রচার চালানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “গণ-অভ্যুত্থানের পরে সরকার যদি জনগণের কাছে দেওয়া অঙ্গীকার রক্ষা করতে চায়, তাহলে ব্যক্তির মর্যাদা, মতপ্রকাশের অধিকার ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতেই হবে। কিন্তু আবুল সরকারকে ঘিরে যে ঘটনা ঘটেছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

সমাবেশে বক্তারা আবুল সরকারের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাকে ‘মিথ্যা’ আখ্যা দিয়ে তা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানান। পাশাপাশি বাউল ভক্তদের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ীদের বিচারও দাবি করেন।

গত বৃহস্পতিবার মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলায় একটি গানের আসর থেকে ‘ইসলাম ও আল্লাহকে নিয়ে কটূক্তির’ অভিযোগে আবুল সরকারকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।
এরপর রোববার এলাকাজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, যখন তৌহিদী জনতা বিক্ষোভে নামে এবং একই সময়ে আবুল সরকারের সমর্থকরা মানববন্ধন করলে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন