বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

এলডিসি উত্তরণ ও চট্টগ্রাম বন্দর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নির্বাচিত সরকারের নেওয়া উচিত: তারেক রহমান

ডেস্ক রিপোর্ট।।

বাংলাদেশের এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) থেকে উত্তরণের সময়সীমা নির্ধারণ এবং চট্টগ্রাম বন্দরসংক্রান্ত কৌশলগত সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র একটি নির্বাচিত সরকারের নেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার দাবি, নির্বাচনী ম্যান্ডেট ছাড়াই গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারে না, যা দেশের অর্থনীতি ও নীতিনির্ধারণে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে।

সোমবার (২৪ নভেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পাতায় প্রকাশিত এক বিশদ বিবৃতিতে তিনি এ কথা জানান।

তারেক রহমান বলেন, সরকার এলডিসি উত্তরণের সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়ে কোনো বিকল্প রাখছে না এবং রাজনৈতিকভাবে তাড়াহুড়া করে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। তিনি উদাহরণ হিসেবে একটি ক্ষুদ্র পোশাক কারখানার চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে বলেন, রপ্তানি সুবিধা কমে গেলে ব্যবসায়ীরা অর্ডার সংকটে পড়েন, শ্রমিকদের মজুরি ও কাজের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, নারায়ণগঞ্জের অনেক শ্রমিক পরিবার রপ্তানি মন্থরতার কারণে প্রথমে ওভারটাইম হারায়, পরে শিফট কমে যায় এবং শেষ পর্যন্ত চাকরি হারানোর ঝুঁকি দেখা দেয়। অথচ এসব বাস্তব অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের মতামত না নিয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে—এমন অভিযোগ করেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, সরকার দাবি করছে সময় বাড়ানোর সুযোগ নেই, কিন্তু ইতিহাসে অ্যাঙ্গোলা ও সামোয়ার মতো দেশ উত্তরণ প্রক্রিয়ায় সময়সীমা সংশোধন করেছে। জাতিসংঘের নিয়ম অনুযায়ী অর্থনৈতিক ধাক্কার পরিস্থিতিতে সদস্য দেশ চাইলে সময় বাড়াতে পারে। তাই বিকল্প পথ বন্ধ রেখে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া দেশের আন্তর্জাতিক আলোচনায় অবস্থানকে দুর্বল করে তুলতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

চট্টগ্রাম বন্দরকে কেন্দ্র করে নেওয়া দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি সম্পর্কেও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার মতে, এটি রুটিন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং জাতীয় সম্পদের কৌশলগত ব্যবহারের বিষয়ে সুদূরপ্রসারী অঙ্গীকার—যা নির্বাচিত নয় এমন সরকারের নেওয়া উচিত নয়।

তিনি পোস্টে লিখেছেন, জনগণের মতামতকে ‘ঝামেলা’ হিসেবে দেখা এবং জনআলোচনা এড়িয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উদ্বেগজনক। নীতি ও প্রতিষ্ঠানকে রক্ষা করার স্বার্থেই এসব বিষয়ে স্বচ্ছতা ও অংশগ্রহণ জরুরি।

তারেক রহমান আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষ সবসময় অধিকার, মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও অংশগ্রহণমূলক রাজনীতিকে মূল্য দিয়েছে। তাই তাদের মতামত শোনা অপরিহার্য।

পোস্টের শেষে তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন জনগণের মতামত জানানোর এবং ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হয়ে উঠবে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন