ঢাকার নিরাপদ খাদ্য আদালত নেসলে বাংলাদেশ ও মেঘনা সুগার রিফাইনারির শীর্ষ দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, এই কোম্পানিগুলো ‘নিম্নমানের খাদ্যপণ্য উৎপাদন, আমদানি ও বাজারজাত’ করছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
সোমবার স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত সাহারা বিথী দুটি পৃথক মামলায় এই আদেশ দেন।
প্রথম মামলায় নেসলে বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দিপাল আবে বিক্রমা ও পাবলিক পলিসি ম্যানেজার রিয়াসাদ জামানের বিরুদ্ধে কিটক্যাট চকলেট-কোটেড ওয়েফারের মান কম রাখার অভিযোগ রয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের খাদ্য পরিদর্শক কামরুল হাসান জানান, পরীক্ষায় ওয়েফার বিস্কুটে ২.৩২ শতাংশ অম্লতা (অ্যাসিডিটি) এবং চকলেটে অনুমোদিত দুধের কঠিন পদার্থের মাত্রা ৯.৩১ শতাংশ পাওয়া গেছে। এতে খাদ্য নিরাপত্তা ও মানদণ্ডে সঙ্ঘাত দেখা গেছে।
দ্বিতীয় মামলায় মেঘনা সুগার রিফাইনারির কর্ণধার মোস্তফা কামালের বিরুদ্ধে ‘সালফার ডাই অক্সাইড সমৃদ্ধ’ নিম্নমানের চিনি বাজারজাতের অভিযোগ করা হয়েছে। পরীক্ষায় চিনির সুক্রোজ মাত্রা ৭৭.৩৫ শতাংশ পাওয়া গেছে, যা অনুমোদিত ৯৯.৭০ শতাংশের অনেক নিচে। এছাড়া সালফার ডাই অক্সাইড পাওয়া গেছে, যা বিএসটিআই অনুযায়ী উপস্থিত থাকা উচিত নয়।
খাদ্য পরিদর্শক কামরুল জানান, এই দুই পণ্যের ব্যবহার জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এবং নিম্নমানের।
নেসলে বাংলাদেশের কোম্পানি সচিব দেবব্রত রায় চৌধুরী জানান, কিটক্যাটের জন্য বিএসটিআই কোনো স্ট্যান্ডার্ড ডেভেলপ করেনি। পণ্যটি দুবাই ও ভারত থেকে আমদানি করা হয় এবং বিসিএসআইআর-এর পরীক্ষার পর কাস্টমস ছাড়পত্র পায়। তিনি বলেন, কোম্পানিটি সব ধরনের আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে পণ্য বাজারজাত করে।
মেঘনা সুগারের বক্তব্য জানা যায়নি। নিরাপদ খাদ্য আদালত মামলাগুলোর পরবর্তী শুনানির দিন ঠিক করেছে ১৫ ডিসেম্বর।

