হজ ও ওমরাহ পালনের সময় ইহরাম বাঁধার পর কোন কাজগুলো করা যাবে আর কোনগুলো নিষিদ্ধ—এ নিয়ে হাজীদের মনে নানা প্রশ্ন থাকে। বিশেষ করে রোদ ও গরম থেকে বাঁচতে ছাতা বা ছায়া নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে অনেকেই দ্বিধায় ভোগেন।
ইসলামি স্কলারদের মতে, ইহরাম অবস্থায় পুরুষদের মাথায় সরাসরি কাপড়, টুপি বা পাগড়ি দেওয়া নিষিদ্ধ হলেও রোদ থেকে রক্ষা পেতে ছাতা ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বৈধ। কারণ ছাতা বা তাবুর ছাদ মাথার সঙ্গে লেগে থাকে না।
তারা জানান, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবন থেকেও এর স্পষ্ট দলিল পাওয়া যায়। বিদায় হজের সময় সাহাবি উসামা (রা.) এবং বেলাল (রা.) নবীজিকে রোদের তাপ থেকে আড়াল করতে কাপড় তুলে ধরেছিলেন—এমন বিবরণ সহিহ মুসলিমে বর্ণিত রয়েছে। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, ছাতা বা আলাদা কোনো ছাউনি ব্যবহার করা নিষিদ্ধ নয়।
ইসলামি বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন—ইহরাম অবস্থায় নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য কয়েকটি কাজ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এর মধ্যে রয়েছে—
-
চুল, গোঁফ বা শরীরের লোম অপসারণ
-
নখ কাটা, সুগন্ধি ব্যবহার
-
বিয়ে ও বিয়ে-সংক্রান্ত কোনো প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ
-
যৌন সম্পর্ক এবং যৌন তৎপরতা
-
শিকার করা বা শিকারে সহায়তা করা
-
ক্ষতিকর নয় এমন প্রাণী হত্যা করা
পুরুষ হাজীদের জন্য আরও কিছু অতিরিক্ত বিধিনিষেধ রয়েছে—
-
মাথায় এমন কিছু পরা নিষিদ্ধ যা মাথার সঙ্গে লেগে থাকে
-
সেলাইকৃত পোশাক পরা নিষিদ্ধ
-
পায়ের উপরের অংশ ঢেকে যায় এমন জুতা পরা যাবে না
নারীরা সাধারণত স্বাভাবিক সেলাই করা পোশাক পরতে পারবেন, মাথাও ঢাকতে পারবেন। তবে—
-
হাত মোজা পরা নিষিদ্ধ
-
নেকাব পরা যাবে না; প্রয়োজনে ওড়না ঝুলিয়ে মুখ আড়াল করা যাবে
উলামারা মনে করিয়ে দেন, হজ-ওমরাহর ইহরাম অবস্থায় এসব বিধিনিষেধ মানা প্রতিটি মুসলিমের ঈমানি দায়িত্ব।

