সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
Logo

একীভূত হওয়া পাঁচ ব্যাংকের কর্মীদের বেতন–সুবিধা কমানোর সিদ্ধান্ত

ডেস্ক রিপোর্ট।।

অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল পাঁচটি শরিয়াভিত্তিক ব্যাংককে একীভূত করার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে কর্মীদের বেতন ও সুবিধা কমানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। চরম তারল্য সংকট ও দীর্ঘদিনের আর্থিক অনিয়মের কারণে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

বর্তমানে ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং এক্সিম ব্যাংক মার্জারের শেষ পর্যায়ে রয়েছে। পাঁচ ব্যাংককে একীভূত করে ‘সাম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’ নামে নতুন একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক গঠনের পরিকল্পনা চলছে, যার লক্ষ্য আর্থিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা।

বুধবার (২৬ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে পাঁচ ব্যাংকের প্রশাসকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বেতন–ভাতা প্রদানে সহায়তা হিসেবে ৩৫০ কোটি টাকা অনুমোদন করা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।

প্রশাসকরা জানান, বেতন বাবদ প্রয়োজন ১,০০০ কোটি টাকা হলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক সীমিত সহায়তা অনুমোদন করেছে। একই সঙ্গে দুর্বল আর্থিক অবস্থার কারণে কর্মীদের বেতন ও সুবিধা কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

একজন প্রশাসক জানান, পাঁচ ব্যাংকে প্রায় ১৬ হাজার কর্মী রয়েছেন, এবং খুব শিগগিরই নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হতে পারে।

ইউনিয়ন ব্যাংকের এক কর্মী অভিযোগ করেন, বেতন দেওয়ার পরও ব্যাংকের তারল্য সংকটের কারণে সময়মতো টাকা উত্তোলন করা সম্ভব হয় না। কর্মীরা মারাত্মক অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি জানিয়েছে, পাঁচ ব্যাংকই আমানতকারীদের অর্থ ব্যবহার করে বেতন পরিশোধ করছে—যা ব্যাংকিং খাতের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং নিয়মবহির্ভূত।

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক ৪,৩০৮ কোটি টাকা নেগেটিভ অপারেটিং ইনকাম দেখিয়েছে। একই সময়ে বেতন ব্যয় ছিল ৬৫২ কোটি টাকা, যা আমানতকারীদের অর্থ থেকে পরিশোধ করতে হয়েছে। ব্যাংকটির বার্ষিক নিট লোকসান দাঁড়িয়েছে ৫,৪৫০ কোটি টাকায়।

আগস্টে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনে গুরুতর প্রশাসনিক দুর্বলতার তথ্যও উঠে এসেছে।

মাসের শুরুতে পাঁচ ব্যাংককে একীভূত করার প্রাথমিক অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। জানা গেছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ব্যাংকগুলোকে এখন পর্যন্ত ৩৫,৩০০ কোটি টাকা তারল্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে, যা এখনো ফেরত দিতে পারেনি কোনো ব্যাংকই।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন