সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
Logo

দেশে খেলাপি ঋণ সাড়ে ৬ লাখ কোটি টাকা ছাড়াল, যেসব ব্যাংক বেশি দায়ী

ডেস্ক রিপোর্ট।।

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের মাত্রা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। সেপ্টেম্বর শেষে বিতরণ করা মোট ঋণের এক–তৃতীয়াংশের বেশি এখন খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা যায়, খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা, যা মোট বিতরণকৃত ঋণের ৩৫.৭৩ শতাংশ।

সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট ঋণ বিতরণ হয়েছে ১৮ লাখ ৩ হাজার ৮৪০ কোটি টাকা। জুনের তুলনায় মাত্র তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩৬ হাজার ১৬৯ কোটি টাকা।

ব্যাংকারদের মতে, অতীত সরকারের সময়ে খেলাপি ঋণের প্রকৃত তথ্য গোপনের প্রবণতা থাকায় বাস্তব পরিস্থিতি বোঝা যেত না। কিন্তু এখন প্রকৃত হিসাব প্রকাশ পাচ্ছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অর্থনীতি শিক্ষক মইনুল ইসলাম বলেন,

“আগের সরকার খেলাপি ঋণের প্রকৃত চিত্র লুকাতে তথ্য বিকৃত করত। এখন সঠিক হিসাব করায় খেলাপির হার ৩৬ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছেছে। শিগগিরই এটি ৪০ শতাংশেও যেতে পারে।”

তিনি মনে করেন, নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে প্রতিটি ব্যাংকের শীর্ষ ১০ খেলাপিকে আলাদা ট্রাইব্যুনালে বিচার করতে হবে।

ব্যাংকাররা বলছেন, গত ১৫ বছরে ব্যাংক খাতে অনিয়ম, জালিয়াতি, প্রতারণা ও রাজনৈতিক প্রভাবিত ঋণ বিতরণ ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়।
এস আলম গ্রুপ, বেক্সিমকো, হলমার্ক, নাসা, বিসমিল্লাহ গ্রুপ এবং বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারির মতো ঘটনাগুলো খেলাপি ঋণ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

একসময় খেলাপি ঋণের হার ২০১১ সালে কমে ৬.১ শতাংশে নেমে এলেও পরে বিভিন্ন কেলেঙ্কারির কারণে তা আবার বাড়তে থাকে।

আইএমএফের পরামর্শে বাংলাদেশ ব্যাংক এখন আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে খেলাপি হিসাব করছে।

আগে ঋণের কিস্তি বাকি পড়ার ৯ মাস পর খেলাপি ধরা হতো, এখন ৩ মাস বকেয়া থাকলেই খেলাপি হিসেবে গণ্য হচ্ছে। এ কারণেও খেলাপির পরিমাণ চোখে পড়ার মতো বৃদ্ধি পেয়েছে।

খেলাপি ঋণ বাড়ার পাশাপাশি ব্যাংকগুলো প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সঞ্চিতি বা প্রভিশন রাখতে পারছে না। সেপ্টেম্বর শেষে প্রভিশন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৪৪ হাজার ২৩১ কোটি টাকা, যা তিন মাসে বেড়েছে ২৪ হাজার ৫১১ কোটি।

ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংক—এই পাঁচ ব্যাংকের মোট ঋণ প্রায় ২ লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে দেড় লাখ কোটি টাকাই খেলাপি।

এস আলম গ্রুপের প্রভাবাধীন চারটি ব্যাংক থেকে নামে–বেনামে বিপুল ঋণ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে, যার বড় অংশই এখন খেলাপি।

অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ বলেন,

“দুই লাখ থেকে চার লাখ, চার লাখ থেকে ছয় লাখ, আর এখন সাড়ে ছয় লাখ কোটি টাকায় পৌঁছেছে খেলাপি ঋণ। ব্যাংকগুলো বছরের পর বছর তথ্য গোপন করেছে ও জালিয়াতি করেছে—এটাই মূল কারণ।”

তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার আসার পর বাংলাদেশ ব্যাংক এখন পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রকৃত হিসাব প্রকাশ করছে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন