বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

শ্রীলঙ্কায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা

ডেস্ক রিপোর্ট।।

ঘূর্ণিঝড় ‘দিতওয়া’–র প্রভাবে টানা ভারী বর্ষণ ও ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত শ্রীলঙ্কা। মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩২–এ, আর নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ১৭৬ জন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করেছে প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকে।

ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির তথ্য অনুযায়ী, এক সপ্তাহের অবিরাম বৃষ্টিতে পুরো দেশজুড়ে ঘরবাড়ি ভেসে গেছে, সড়ক– সেতু ভেঙে পড়েছে এবং বহু এলাকা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র (ডিএমসি) জানিয়েছে, ১৫ হাজারেরও বেশি বাড়িঘর বিধ্বস্ত এবং কমপক্ষে ৭৮ হাজার মানুষকে জরুরি আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

বন্যা–বিধ্বস্ত বিভিন্ন এলাকায় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। শুধু অনুরাধাপুরা জেলাতেই টানা ২৪ ঘণ্টায় হেলিকপ্টার ও নৌকা ব্যবহার করে এক জার্মান পর্যটকসহ ৬৯ জন বাসযাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

উদ্ধার পাওয়া যাত্রীদের একজন জানান, “ছাদের ওপর দাঁড়িয়ে আমরা জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করছিলাম। একসময় ছাদের অংশ ভেঙে তিন নারী পানিতে পড়ে যান, কিন্তু নৌবাহিনী দ্রুত তাদের টেনে তুলে আবারও নিরাপদে নিয়ে আসে।”

মধ্যাঞ্চলের বদুল্লা জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। রাস্তা–ঘাট ধসে পড়ায় অনেক গ্রাম সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে, পৌঁছানো যাচ্ছে না ত্রাণসামগ্রী। বহু এলাকায় খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।

ডিএমসি জানায়, দেশের প্রায় এক–তৃতীয়াংশ এলাকায় বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। ইন্টারনেট সংযোগ বিঘ্নিত হওয়াও সাধারণ যোগাযোগ ব্যাহত করছে।

প্রধানমন্ত্রী হারিনি আমরাসুরিয়া কলম্বোভিত্তিক আন্তর্জাতিক কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করে জরুরি সহায়তার অনুরোধ জানিয়েছেন। ভারত প্রথম সাড়া দিয়ে দুটি বিমানে ত্রাণ পাঠিয়েছে, পাশাপাশি কলম্বোতে অবস্থানরত ভারতীয় যুদ্ধজাহাজ নিজস্ব রেশন ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য দান করেছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গভীর শোক প্রকাশ করে আরও সহায়তা পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০১৭ সালের বন্যার পর এবারের দুর্যোগই সবচেয়ে ভয়াবহ। ২০০৩ সালের বড় বন্যার পর এটি শ্রীলঙ্কার অন্যতম সবচেয়ে বিপর্যয়কর পরিস্থিতি।

সরকার জানিয়েছে, পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, কারণ ঘূর্ণিঝড় দিতওয়ার প্রভাবে বৃষ্টিপাত উত্তরাঞ্চলে আরও বিস্তৃত হতে পারে। জনগণকে নিরাপদ স্থানে থাকতে এবং সতর্কবার্তা অনুসরণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন