রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

সরকার বিকল্প পথে হাঁটছে: ‘বৃত্তি’ নয়, এবার ‘মেধা যাচাই’ পরীক্ষা

ডেস্ক রিপোর্ট।।

দীর্ঘ ১৬ বছর পর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি পরীক্ষা চালুর উদ্যোগ নিয়েছিল সরকার। নীতিমালা তৈরি, মানবণ্টন প্রকাশ, নমুনা প্রশ্নসহ সব প্রস্তুতি প্রায় শেষ হলেও হঠাৎই আইনি জটিলতা সামনে এসেছে। বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অভিভাবকদের রিটের পর হাইকোর্ট জানিয়েছে, বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরও বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে হবে।

এই রায়ের ফলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনায় অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। আদালতের নির্দেশনা মেনে আগামী ডিসেম্বরে পরীক্ষার আয়োজন সম্ভব নয়। এমন পরিস্থিতিতে বিকল্প পথে হাঁটছে অধিদপ্তর।

অধিদপ্তর এখন একই পদ্ধতি বজায় রেখে ‘বৃত্তি’ পরীক্ষার নাম পরিবর্তন করে পরীক্ষা আয়োজন করতে যাচ্ছে ‘মেধা যাচাই’ নামে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্র জানায়, “প্রস্তুতি সম্পন্ন, সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। পরীক্ষার ধরন, প্রশ্নপত্র, সময় ও নম্বর একই থাকবে। শুধু নাম পরিবর্তন করা হয়েছে।”

মেধা যাচাই পরীক্ষা আগামী ২১-২৪ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম দিন বাংলা, দ্বিতীয় দিন ইংরেজি, তৃতীয় দিন গণিত, চতুর্থ দিন বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় এবং প্রাথমিক বিজ্ঞান বিষয়ে পরীক্ষা নেওয়া হবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২:৩০ পর্যন্ত পরীক্ষা হবে। শিক্ষার্থী প্রতি ফি ১০০ টাকা, তবে অতি দরিদ্রদের জন্য ফি মওকুফ করা হবে।

বেসরকারি বিদ্যালয়গুলো সরকারের অনুমোদন নিয়ে চালানো হলেও এবং একই সিলেবাস, বই ও প্রশ্নপত্র অনুসরণ করলেও তাদের শিক্ষার্থীরা বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারছে না। বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ঐক্য পরিষদের চেয়ারম্যান এম ইকবাল বাহার চৌধুরী বলেন, “এতে শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছে, এটি স্পষ্ট প্রতারণা।”

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে লিভ টু আপিল করেছেন। আপিলের শুনানি শেষ হলে বৃত্তি পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হবে। অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান বলেন, “যদি আদালত বৃত্তি পরীক্ষা নেওয়ার নির্দেশ দেয়, তখন বৃত্তি পরীক্ষা হবে। আপাতত ২১-২৪ ডিসেম্বর মেধা যাচাই পরীক্ষা হবে।”

রাজধানীর রামপুরার সপ্তবর্ণ বিদ্যা নিকেতনের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী আজিজাতুস সাদিয়া মেধা যাচাই পরীক্ষার খবর শুনে হতাশ। তার মা আসমা আক্তার বলেন, “বৃত্তি পরীক্ষা দেওয়ার জন্য মেয়েকে প্রস্তুত করছিলাম। এখন নাম বদলে মেধা যাচাই হওয়ায় সে হতাশ।”

বেসরকারি বিদ্যালয়গুলো এই পরিস্থিতিতে আদালতের পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত অপেক্ষা করছেন এবং প্রয়োজনে নতুন রিট আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন