বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

ভারতে আশ্রিত শেখ হাসিনাকে তাড়ানোর দাবিতে সোচ্চার ভারতের নেতারা

ডেস্ক রিপোর্ট।।

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঘিরে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে। এখন পর্যন্ত বিষয়টি কূটনৈতিক পরিমণ্ডলে সীমাবদ্ধ থাকলেও বিরোধী দলসহ বিভিন্ন মহলে এ নিয়ে উত্তাপ বাড়ছে।

হাসিনার বিরুদ্ধে দেওয়া মৃত্যুদণ্ড-সম্পর্কিত রায়ের পর সমালোচনার মাত্রা আরও তীব্র হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো।

অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (AIMIM)-এর প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি দাবি করেছেন, দিল্লিতে আশ্রয়প্রাপ্ত হাসিনাকে ভারত কেন ফেরত পাঠাচ্ছে না, তা স্পষ্ট করা উচিত সরকারের। তাঁর অভিযোগ—বাংলাদেশে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনকে ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিলেও “পতিত সরকারের প্রধানকে” আশ্রয় দিয়ে দিল্লি নিজেদের কূটনৈতিক অবস্থানে জটিলতা তৈরি করছে।

ওয়াইসি আরও বলেন, “হিন্দু নির্যাতন নিয়ে উদ্বেগ দেখানো সরকার এখন একজন বিতর্কিত সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ভিআইপি আচরণ দেখাচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের কাছে প্রশ্ন তৈরি করছে।”

ভারতের কয়েকটি বিরোধী দল অভিযোগ করছে, বাংলাদেশে ভিসা পেতে সাধারণ মানুষ যেখানে ভোগান্তিতে পড়ছে, সেখানে একজন রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত নেত্রীকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার যুক্তি ব্যাখ্যা করতে পারেনি কেন্দ্র।

কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরীর দাবি—ভারত কখনোই কোনও দেশের রাজনৈতিক নেতার “নিরাপদ আশ্রয়” হওয়া উচিত নয়। তাঁর মতে, প্রতিবেশী দেশের জনগণের ইচ্ছাকে শ্রদ্ধা জানানোই ভারতের নীতি হওয়া দরকার।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি শেখ হাসিনার নাম না নিলেও সম্প্রতি এক বক্তব্যে বলেছেন, “ভারত মানবিক দেশ, তবে একজনের কারণে দীর্ঘদিনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া উচিত নয়।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তাঁর এই মন্তব্য শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর দাবির প্রতি পরোক্ষ সমর্থন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রাজ্যের বাম দলগুলোর কয়েকজন নেতা মনে করছেন, গণতন্ত্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে অভিযুক্ত কোনও নেতার আশ্রয়ের যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।

কলকাতার কয়েকজন সমাজকর্মী ও ছাত্রনেতা দিল্লির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, প্রতিবেশী দেশের রাজনৈতিক সংকটে ভারতের নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখা জরুরি।

চলচ্চিত্র নির্মাতা সৌমিত্র দোস্তিদার মন্তব্য করেন, “যে কোনও দেশের জনগণের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ যাঁর বিরুদ্ধে রয়েছে, তাঁকে আশ্রয় দিলে আন্তর্জাতিক মহলে ভুল বার্তা যেতে পারে।”

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, শেখ হাসিনাকে ঘিরে ভারতের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন সামনে আরও বাড়তে পারে। বিরোধীদের চাপ এবং সীমান্তরাজনীতির প্রেক্ষাপট—উভয়ই কেন্দ্র সরকারের জন্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

তাঁদের মতে, এখন দিল্লির সামনে বড় প্রশ্ন—দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, কূটনৈতিক হিসাব–নিকাশ এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ—কোনটি তারা অগ্রাধিকার দেবে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন