বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

ইন্দোনেশিয়ায় ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা ৪০০ ছাড়াল, শতাধিক মানুষ এখনো নিখোঁজ

ডেস্ক রিপোর্ট।।

ঘূর্ণিঝড় সেনইয়ার–এর প্রভাবে ইন্দোনেশিয়ায় সৃষ্টি হওয়া ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানি বেড়ে ৪০০–র বেশি হয়েছে। এখনও শত শত মানুষ নিখোঁজ, যাদের বড় একটি অংশ ভূমিধসে মাটির নিচে চাপা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে টানা বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও ঘূর্ণিঝড়ের তীব্র বাতাসে দেশের সুমাত্রা দ্বীপজুড়ে বিপর্যস্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা (BNPB) জানিয়েছে আচেহ,উত্তর সুমাত্রা,পশ্চিম সুমাত্রা এই তিন প্রদেশে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা সবচেয়ে বেশি। তাপানুলি ও সিবোলগা এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় উদ্ধারকারী দল পৌঁছাতে পারছে না। সংস্থার প্রধান সুহারিয়ান্তো জানিয়েছেন, এই দুটি এলাকায় জরুরি সহায়তা ও উদ্ধার অভিযান আরও জোরদার করতে হবে।

সরকারি ও আন্তর্জাতিক ত্রাণ আকাশপথে—হেলিকপ্টার, এবং জলপথে পাঠানো হলেও বহু গ্রাম এখনো ত্রাণ–বঞ্চিত। খাবার ও বিশুদ্ধ পানীয় জলের সংকটে কিছু এলাকায় দোকানভাঙচুর ও খাদ্য লুটপাট শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সুমাত্রার বিভিন্ন স্থানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, পানি নেমে গেলেও কাদা ও ধ্বংসস্তূপে রাস্তা–ঘরবাড়ি ঢেকে আছে। পশ্চিম সুমাত্রার পদাং শহর থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরের সুংগাই নিয়ালো গ্রামে এখনো রাস্তাঘাট পরিষ্কারই শুরু হয়নি, ফলে কোনো বাহিরের সহায়তা পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

দুর্যোগ–কবলিত অঞ্চলে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিঘ্নিত হওয়ায় প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক কৌশলগত সহায়তা হিসেবে বিনামূল্যে স্টারলিংক সেবা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

ঘূর্ণিঝড় ও মৌসুমি বৃষ্টিপাতের প্রভাবে একই সময় দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ার আরও কয়েকটি দেশেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

থাইল্যান্ডে মৃত্যু ১৭০ ছাড়িয়েছে।মালয়েশিয়ায়ও প্রাণহানি ঘটেছে।শ্রীলঙ্কায় বন্যা ও ভূমিধসে মারা গেছেন ৩৩০–র বেশি মানুষ। রাজধানী কলম্বোর বহু এলাকা এখনো পানির নিচে।ফিলিপাইনে বন্যায় মৃত্যু হয়েছে ২০০–র বেশি, পাশাপাশি সরকারি তহবিল আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতিবিরোধী বিক্ষোভ দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে।

ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফেরদিনান্দ ‘বংবং’ মার্কোস জুনিয়রের বিরুদ্ধে জনঅসন্তোষ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, তাঁর নিজ দলের সদস্যরাও এখন বিরোধী অবস্থান নিয়েছেন।

পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষিণ ও দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ায় ঘন ঘন এমন ঘূর্ণিঝড়, অস্বাভাবিক ভারী বর্ষণ ও আকস্মিক বন্যা জলবায়ু পরিবর্তনের সরাসরি প্রভাব—যা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় এখন বেশি ধ্বংসাত্মক।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন