অজুর সময় ঠোঁটে লিপজেল বা গ্লিসারিন জাতীয় প্রসাধনী থাকলে অজু শুদ্ধ হবে কি না—এমন প্রশ্ন অনেকের মনে আসে। এ বিষয়ে ইসলামি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অজুর ফরজ অঙ্গগুলোতে পানি পৌঁছানোই মূল শর্ত। লিপজেল কিংবা লোশন-পাউডারের মতো প্রসাধনী সাধারণত চামড়ার ওপর আলাদা আবরণ তৈরি করে না, বরং চামড়ার সঙ্গে মিশে যায়; ফলে এগুলো পানি পৌঁছাতে বাধা সৃষ্টি করে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঠোঁটে লিপজেল লাগানো অবস্থায় অজু করলে অজু শুদ্ধ হবে। এ ক্ষেত্রে আলাদা করে লিপজেল ধুয়ে ফেলার প্রয়োজন নেই। শুধু স্বাভাবিক নিয়মে মুখমণ্ডল ভালোভাবে ধুয়ে নিলেই যথেষ্ট।
অজুর ফরজ অঙ্গগুলোর কোনো অংশ শুকনো রয়ে গেলে অজু শুদ্ধ হয় না বলে সতর্ক করেছেন ইসলামি আলেমরা।
সহিহ বুখারি ও মুসলিম শরিফে আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) বর্ণিত একটি ঘটনার উল্লেখ করে তারা বলেন—রাসুল (সা.) অযুর সময় পা ভালোভাবে না ধোয়ার কারণে সাহাবিদের সতর্ক করে বলেন, “পায়ের গোড়ালির জন্য জাহান্নামের শাস্তি রয়েছে।”
আরেক হাদিসে সহিহ মুসলিমে এসেছে, এক ব্যক্তি অজু করে এলে দেখা যায় তার পায়ের অল্প অংশ শুকনো আছে। তখন রাসুল (সা.) তাকে ফিরে গিয়ে পুনরায় সম্পূর্ণ অজু করতে নির্দেশ দেন।
ধর্মীয় বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, অজুর কোনো অঙ্গে প্রসাধনী বা অন্য কিছু এমনভাবে লাগানো থাকে যে পানি সেখানে পৌঁছায় না—এমন হলে অজু হবে না। আর অজু না হলে সেই অজু দিয়ে নামাজও শুদ্ধ হবে না।
তাই অজু করার সময় অসতর্কতার কারণে কোনো অংশ শুকনো না রেখে প্রতিটি ফরজ অঙ্গ ভালোভাবে ধোয়া জরুরি।

