আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন (ইসি) অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণের জন্য সর্বোচ্চ প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।
সোমবার নারায়ণগঞ্জ বন্দরের একটি রিসোর্টে ভোট গ্রহণকারী কর্মকর্তাদের জন্য আয়োজিত দিনব্যাপী কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “এবার এমন কোনো দিক রাখিনি যেখানে প্রস্তুতির ঘাটতি থাকবে। ভোটারদের জন্য নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশ নিশ্চিত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”
ইসির এই সদস্য জানান, একই দিনে গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন হওয়ায় ভোটারদের মাঝে কিছু বিভ্রান্তি দেখা দিতে পারে। তবে রেডিও, টেলিভিশন, ইউটিউবসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারণা এবং মক ভোটিং প্রদর্শনের মাধ্যমে বিষয়গুলো সহজভাবে তুলে ধরা হচ্ছে।
প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থায় নতুন প্রযুক্তি সংযোজনের কথাও জানান কমিশনার। তিনি বলেন, “নিবন্ধিত ভোটারদের কাছে আগেই ব্যালট পাঠানো হবে, এবং নির্বাচনের দিন তা গ্রহণের ব্যবস্থা থাকবে।”
নির্বাচনী আইন সংশোধনের ফলে এবার প্রিজাইডিং অফিসার, রিটার্নিং অফিসার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অধিক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
নির্বাচনের সময়সূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এই মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে তফসিল ঘোষণা করা হবে। শিডিউল ঘোষণার পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। রমজানের আগেই, অর্থাৎ ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে ভোট হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।”
তিনি ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, “নির্ভয়ে ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটকেন্দ্রে যান। ২০২৬ সালের জন্য একটি সুন্দর নির্বাচন উপহার দিতে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।”
কর্মশালায় নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মো. হাসানুজ্জামান, নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক রায়হান কবির, পুলিশ সুপার মিজানুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

