রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। নির্ধারিত সময়মতো ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রথম ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা আর সম্ভব হচ্ছে না। একইসঙ্গে দ্বিতীয় ইউনিটের কর্মসূচিও পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে আরও ২৬ হাজার ১৮১ কোটি টাকা যুক্ত করার প্রস্তাব করেছে। এতে মোট ব্যয় দাঁড়াচ্ছে এক লাখ ৩৯ হাজার ২৭৪ কোটি টাকা, যা মূল ব্যয়ের তুলনায় প্রায় ২৩% বেশি।
প্রকল্পের মেয়াদও তিন বছর বাড়িয়ে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে।
নভেম্বরে পিইসি সভায় জানানো হয়, প্রথম সংশোধনীতে বৈদেশিক মুদ্রার হার সঠিকভাবে ধরা হয়নি। পুনর্মূল্যায়নে ব্যয় আরও বাড়তে থাকে।
মূল প্রকল্পে (২০১৬) ব্যয় ছিল ১ লাখ ১৩ হাজার ৯২ কোটি টাকা। যদিও রাশিয়ার ১১.৩৮ বিলিয়ন ডলারের ঋণ অপরিবর্তিত, টাকার মান কমে যাওয়ায় এখন তা দাঁড়াচ্ছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৭৯৯ কোটি টাকা।
নতুন বিনিময় হার
২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত: ডলার ৯৫.২৮ টাকা
বাকি তিন বছর: ডলার ১২২ টাকা
পরিকল্পনা কমিশনের মতে, সঠিক ব্যয় না ধরা হলে ইউনিটপ্রতি উৎপাদন খরচ ও আর্থিক বিশ্লেষণে ভুল হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
ইতোমধ্যে প্রকল্পে তিন বছর বিলম্ব হওয়ায় যন্ত্রপাতির আয়ুষ্কাল কমছে,জনবলের ব্যয় বাড়ছে,ঋণের কিস্তির চাপও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
রাশিয়ার মোট ঋণ ১২.৬৫ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে এতদিন পাওয়া গেছে ৭.৭০ বিলিয়ন ডলার। করোনাকাল ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বাকি অর্থ ছাড়ে দেরি হয়েছে। প্রটোকল চূড়ান্ত হলে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাকি টাকা পাওয়া যাবে।
২০২৯ সালের মার্চ থেকে ঋণ পরিশোধ শুরু হবে; দুই কিস্তি পেমেন্ট মিস করলে ৩০ দিনের পর সুদ ১৫০% পর্যন্ত বাড়তে পারে।
আইএমইডির সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউনিট–১ ও ২-এর হালনাগাদ উৎপাদন সময়সূচি এখনও নির্ধারিত হয়নি।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন ডিসেম্বরে ফুয়েল লোডিং শুরু হতে পারে,আগামী মার্চে আংশিক বিদ্যুৎ উৎপাদন,পূর্ণ ১,২০০ মেগাওয়াটে যেতে আরও ১০ মাস সময় লাগবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মো. শফিকুল ইসলামের মতে, টাকার অবমূল্যায়নসহ নানা কারণে ইউনিটপ্রতি উৎপাদন খরচ প্রায় ৫০% পর্যন্ত বেড়ে গেছে।
তিনি মন্তব্য করেন, সময়মতো প্রকল্প শুরু হলে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমত, কিন্তু এখন প্রকল্পটি অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

