বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ব্যবহারের জন্য বিদেশ থেকে আনা বিশেষ সুবিধাসম্পন্ন টয়োটা ল্যান্ড ক্রুজার প্রাডো এলসি–২৫০ মডেলের একটি হার্ড জিপ দেশে এসে পৌঁছেছে। ইতোমধ্যে গাড়িটি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নামে আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধিত হয়েছে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) গত মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) গাড়িটির রেজিস্ট্রেশন ও ফিটনেস অনুমোদন দেয়। নিবন্ধনপত্রে মালিকের ঠিকানা হিসেবে রাখা হয়েছে দলীয় কার্যালয় ২৮/১ নয়াপল্টন, ঢাকা। গাড়িটির নম্বর—ঢাকা মেট্রো-ঘ ১৬-৬৫২৮।
বিআরটিএ এবং কাস্টমস–সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাদা রঙের সাত আসনের এই জিপটি ২০২৪ সালে জাপানে তৈরি হলেও আমদানি করা হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে।
আমিরাতের ভেলোস অটোমোটিভ এক্সপোর্টিং এলএলসি থেকে গাড়িটি আমদানি করেছে রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলের প্রতিষ্ঠান এশিয়ান ইমপোর্টস লিমিটেড।
চট্টগ্রামের ‘মা অ্যাসোসিয়েটস’-এর মাধ্যমে ১ নভেম্বর গাড়িটি বাংলাদেশে আসে।
বিল অব এন্ট্রি অনুযায়ী,
-
ইঞ্জিন ক্ষমতা: ২,৮০০ সিসি
-
কেনা দাম: ৩৭,০০০ মার্কিন ডলার
-
এনবিআর-এর শুল্ক মূল্যায়ন হার: ১ ডলার = ১২২.৪১ টাকা
-
ভিত্তিমূল্য: ৪৫ লাখ ২৯ হাজার ১৭০ টাকা (বাংলাদেশি মুদ্রায়)
তবে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ গাড়িটির মূল্যায়ন করেছে ৪১,000 ডলার হিসেবে।
শুল্ক, ভ্যাট ও কর বাবদ সরকারের কোষাগারে জমা পড়েছে মোট ২ কোটি ৩১ লাখ ১৬ হাজার ৯৪২ টাকা। সব মিলিয়ে গাড়িটির মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ কোটি ৭৬ লাখ ৪৬ হাজার ১১২ টাকা।
রেজিস্ট্রেশনের দিনই গাড়িটির ফিটনেস অনুমোদন করেন ঢাকা মেট্রো–১ সার্কেলের মোটরযান পরিদর্শক সাবিকুন নাহার।
-
ফিটনেস বৈধতা: ডিসেম্বর ২০২৯ পর্যন্ত
-
ট্যাক্স টোকেন: এক বছরের জন্য, মেয়াদ শেষ হবে ১ ডিসেম্বর ২০২৫
-
ওজন: সাধারণ অবস্থায় ২,৭৯০ কেজি, সর্বোচ্চ ৩,০৮৫ কেজি
এশিয়ান ইমপোর্টস লিমিটেডের শোরুমে দায়িত্বপ্রাপ্তরা গাড়িটি কার ব্যবহারের জন্য আনা হয়েছে, স বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি।
এর আগে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নিরাপত্তার জন্য দুটি বুলেটপ্রুফ গাড়ি কেনার অনুমতি দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। একটি জুনে এবং আরেকটি অক্টোবর মাসে অনুমোদন পায়। তবে সদ্য আমদানি করা এই ল্যান্ড ক্রুজার প্রাডোটি বুলেটপ্রুফ কি না—এসংক্রান্ত কোনো সরকারি নথি পাওয়া যায়নি।

