বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

চীন–বাংলাদেশকে নিয়ে নতুন জোট গড়তে চাইছে পাকিস্তান, জোটে বাড়তে পারে আরও দেশ

ডেস্ক রিপোর্ট।।

দক্ষিণ এশিয়ার অচলাবস্থায় থাকা সহযোগিতা কাঠামো সার্কের বিকল্প হিসেবে নতুন আঞ্চলিক জোট গঠনের প্রস্তাব করেছে পাকিস্তান। দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী ইশহাক দার জানিয়েছেন, বাংলাদেশ–পাকিস্তান–চীনকে নিয়ে শুরু হওয়া ত্রিদেশীয় আলোচনার পরিধি আরও বাড়িয়ে এতে অন্যান্য দেশকেও যুক্ত করা হতে পারে।

বুধবার (৩ ডিসেম্বর) ইসলামাবাদ কনক্লেভ ফোরামে বক্তৃতাকালে তিনি বলেন, “আমরা সংঘাত নয়, সহযোগিতার পথ চাই। আমাদের উন্নয়ন প্রক্রিয়া কোনো দেশের অনমনীয়তার কারণে থেমে থাকা উচিত নয়।”

ইশহাক দারের মন্তব্য বিশ্লেষকদের মতে সার্কের বাস্তব অকার্যকারিতাকেই সামনে আনে। ভারত–পাকিস্তান উত্তেজনার কারণে প্রায় এক দশক ধরে সার্কের কোনো কার্যকর বৈঠক হয়নি। ২০১৬ সালের নির্ধারিত সম্মেলনও স্থগিত হওয়ার পর সংগঠনটি কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে।

এ অবস্থায় পাকিস্তান বিকল্প আঞ্চলিক জোটের মাধ্যমে সহযোগিতা জোরদারের উদ্যোগের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

গত জুনে চীন, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের কূটনীতিকরা আঞ্চলিক উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা নিয়ে একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠক করেন। যদিও বৈঠকটি কোনো নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে নয় বলে জানানো হয়েছিল, বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তা নতুন জোট গঠনের মাটিই প্রস্তুত করেছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

এই অবস্থায় ভারত–পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের বৈরিতা এবং সাম্প্রতিক চারদিনের সংঘাত, সেই সঙ্গে বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্কের অবনতি আঞ্চলিক রাজনীতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

লাহোর বিশ্ববিদ্যালয়ের রাবেয়া আক্তার মনে করেন, পাকিস্তানের নতুন জোট–স্বপ্ন “আকাঙ্ক্ষিত হলেও বাস্তবায়ন কঠিন”—কারণ দক্ষিণ এশিয়া এখনও রাজনৈতিক অবিশ্বাসের বলয়ে আবদ্ধ। তবে সার্ক নিষ্ক্রিয় থাকায় বিকল্প সহযোগিতা কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা এখন স্পষ্ট।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে—

বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্ক খারাপ হওয়া এবং পাকিস্তান–বাংলাদেশ সম্পর্ক চীনের মাধ্যমে নতুন করে ঘনিষ্ঠ হওয়া—
ত্রিদেশীয় সহযোগিতা উদ্যোগকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক প্রবীণ দোন্থি বলেন, “তাত্ত্বিকভাবে নতুন আঞ্চলিক প্ল্যাটফর্ম গঠনের সুযোগ রয়েছে। তবে এটি সফল হলে চীন–ভারত প্রতিযোগিতা বাড়বে, আর ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক আরও খারাপ হতে পারে।”

১৯৮৫ সালে গঠিত সার্ক দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্য–সম্ভাবনাময় অঞ্চলের দেশগুলিকে এক ছাতার নিচে এনেছিল। কিন্তু ভারত–পাকিস্তান উত্তেজনার জেরে সংগঠনটি তার লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। বর্তমানে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য হার মাত্র পাঁচ শতাংশের কাছাকাছি—যা আঞ্চলিক সংযোগ ঘাটতির প্রতিফলন।

রাবেয়া আক্তার মনে করেন, ছোট–খাটো বিষয়ভিত্তিক সহযোগিতা কিংবা আঞ্চলিক উপ–জোট গঠনের সুযোগ রয়েছে। তবে এতে যুক্ত হওয়ার আগে দেশগুলোকে বিবেচনা করতে হবে ভারতের সঙ্গে তাদের সম্ভাব্য উত্তেজনার ঝুঁকি।

সার্বিকভাবে বিশেষজ্ঞদের অভিমত—পাকিস্তানের প্রস্তাব আঞ্চলিক সহযোগিতার নতুন আলোচনার পথ খুলে দিলেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক জটিলতা এবং ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন