তিন দফা দাবিতে লাগাতার আন্দোলনের কারণে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষায় ব্যাপক বিঘ্ন ঘটে। দেশের বেশিরভাগ বিদ্যালয়ে নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা শুরু না হওয়ায় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম ভোগান্তি দেখা দেয়। দাবি আদায়ে সরকারের আশ্বাস ও চাকরিবিধি অনুযায়ী শাস্তির হুঁশিয়ারিও কাজে না আসায় শেষ পর্যন্ত মন্ত্রণালয় গণহারে শোকজ ও বদলির সিদ্ধান্ত নেয়।
গত ১–৩ ডিসেম্বর দেশের বহু জেলায় সহকারী শিক্ষকদের গণহারে শোকজ করা হয়। এরপর ৪ ডিসেম্বর আন্দোলনকারীদের মধ্যে একজন প্রধান শিক্ষকসহ মোট ৪৩ জনকে রীতি ভেঙে অন্য জেলায় বদলি করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। এই সিদ্ধান্তের পর আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দেয় নেতৃত্বদানকারী সংগঠন ‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’।
সংগঠনটির আহ্বায়ক মোহাম্মদ শামছুদ্দিন মাসুদ বলেন, আন্দোলনের কারণে প্রশাসন যেসব সাধারণ শিক্ষককে বিনা কারণে বদলি বা শোকজ করেছে, তা প্রত্যাহারের দাবিতে তারা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে আবেদন করবেন। তিনি অভিযোগ করেন, পরীক্ষায় অংশ নেওয়া অনেক শিক্ষককে অযথা হয়রানির শিকার হতে হয়েছে।
গণবদলি ও শোকজের মুখে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি স্থগিত করে রবিবার (৭ ডিসেম্বর) থেকে বার্ষিক পরীক্ষায় ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষকরা। শামছুদ্দিন মাসুদ বলেন, শিক্ষার্থীদের স্বার্থ, অভিভাবকদের অনুরোধ এবং সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আপাতত কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। বার্ষিক পরীক্ষা শেষে আবার নতুন কর্মসূচি দেওয়া হবে।
কর্মবিরতির কারণে কোথাও উপজেলা প্রশাসন বা অভিভাবকদের সহায়তায় সীমিত পরিসরে পরীক্ষা নেওয়া হলেও সারা দেশের সাড়ে ৬৫ হাজার বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রায় ৪২ হাজার বিদ্যালয়ে পরীক্ষা হয়নি। অনেক স্থানে প্রশ্নপত্র এক বিদ্যালয় থেকে অন্য বিদ্যালয়ে ছড়িয়ে পড়ায় অভিভাবকদের মধ্যে প্রশ্ন মিল এবং মূল্যায়নের মান নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয়।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর বলছে, নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি বিদ্যালয় নিজস্ব প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করে—তাই সমস্যা হওয়ার কথা নয়। তবে যেসব উপজেলায় কেন্দ্রীয়ভাবে প্রশ্নপত্র তৈরি করা হয়, সেসব স্থানে সমন্বয়হীনতার কারণে প্রশ্ন মিলের ঘটনা ঘটতে পারে।
দেশে বর্তমানে ৬৫ হাজার ৫৬৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও প্রায় তিন লাখ ৮৪ হাজার শিক্ষক রয়েছেন। প্রধান শিক্ষকরা দশম গ্রেড পেলেও সহকারী শিক্ষকরা এখনো ১৩তম গ্রেডে রয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে গ্রেড উন্নীতকরণের দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন তারা। সর্বশেষ তিন দফা দাবির মধ্যেও গ্রেড উন্নয়নই ছিল প্রধান।

