বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

গুমের নির্দেশ দিতেন হাসিনা, বাস্তবায়ন করতেন মেজর তারিক

ডেস্ক রিপোর্ট।।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সংঘটিত গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার শুনানিতে নতুন অভিযোগ উত্থাপন করেছে প্রসিকিউশন। রোববার (৭ ডিসেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১-এ অনুষ্ঠিত অভিযোগ গঠন শুনানিতে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম দাবি করেন— জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল (জেআইসি) বা ‘আয়নাঘর’-এ সংঘটিত গুম-নির্যাতনের পেছনে উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনা ছিল।

শুনানিতে তিনি বলেন, এসব অভিযোগিত ঘটনাগুলোর নির্দেশনা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিয়েছেন এবং তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ভূমিকা ছিল তার তৎকালীন প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকের। প্রসিকিউশনের অভিযোগগুলো আদালতে উপস্থাপিত হলেও এ বিষয়ে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

দুপুরের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চ শুনানি শুরু করে। অন্যান্য সদস্য ছিলেন বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

মামলার তিন আটক আসামি—ডিজিএফআই’র সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী—কড়া নিরাপত্তায় সেনানিবাসের বিশেষ কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

মামলায় আরও কয়েকজন সাবেক উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাকে পলাতক দেখানো হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন—

মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক,ডিজিএফআই’র সাবেক মহাপরিচালক লে. জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আকবর হোসেন,মেজর জেনারেল (অব.) সাইফুল আবেদিন,লে. জেনারেল (অব.) মো. সাইফুল আলম,লে. জেনারেল তাবরেজ শামস চৌধুরী,মেজর জেনারেল (অব.) হামিদুল হক,মেজর জেনারেল তৌহিদুল ইসলাম,মেজর জেনারেল কবির আহাম্মদ,লে. কর্নেল (অব.) মখসুরুল হক।

পলাতক আসামিদের পক্ষে ট্রাইব্যুনাল রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আইনজীবী নিয়োগ করেছে। শেখ হাসিনার পক্ষে শুরুতে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেডআই খান পান্না দায়িত্ব নিলেও পরে অসুস্থতার কারণে তিনি সরে দাঁড়ান। বর্তমানে মো. আমির হোসেন এই দায়িত্ব পালন করছেন।

গত ৮ অক্টোবর প্রসিকিউশন ১৩ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে। এরপর আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে এবং পলাতকদের হাজির করতে জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেয়।

শুনানির পরবর্তী ধাপে অভিযোগ গঠন করা হবে কিনা—সেই সিদ্ধান্ত পরবর্তী তারিখে জানানো হবে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।c

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন