বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া সংঘাতে দুই দেশের ৫ লাখেরও বেশি মানুষ ঘরছাড়া

ডেস্ক রিপোর্ট।।

দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার প্রতিবেশী দেশ থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার সীমান্তে চলমান সংঘাতের কারণে দুই দেশের অন্তত ৫ লাখ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য তাদের বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বুধবার (১০ ডিসেম্বর) এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

থাইল্যান্ডের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সুরাসান্ত কংসিরি মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) ব্যাংককে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, কম্বোডিয়ার সীমান্তবর্তী গ্রাম ও শহরগুলো থেকে ৪ লাখের বেশি মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে স্থানান্তর করা হয়েছে। এই কাজে সেনা ও পুলিশ সদস্যরা সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।

একই দিন কম্বোডিয়ার রাজধানী নমপেনে সংবাদ সম্মেলনে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ম্যালি সোচিয়েতা জানান, পাঁচটি প্রদেশ থেকে মোট ১ লাখ ১ হাজার ২২৯ জন নাগরিককে নিরাপদ সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

দুই দেশের মধ্যে ৮০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তে ‘এমারেল্ড ট্রায়াঙ্গেল’ বা পান্না ত্রিভুজ অবস্থিত। থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া উভয়ই এই প্রাচীন মন্দির এবং ধর্মীয় স্থানে সমৃদ্ধ অঞ্চলটিকে নিজেদের বলে দাবি করে আসছে। এই বিরোধের ইতিহাস এক শতাব্দীরও বেশি পুরোনো।

১৯০৭ সালে ফ্রান্স কম্বোডিয়ার মানচিত্র প্রকাশ করে ত্রিভুজকে কম্বোডিয়ার অংশ হিসেবে দেখায়, যা তখনই থাইল্যান্ডের আপত্তির মুখে পড়ে। ১৯৫৩ সালে কম্বোডিয়ার স্বাধীনতার পরও এই সীমান্ত বিরোধ বজায় থাকে।

প্রায় ১৫ বছর আগে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হলেও গত বছরের মে মাসে উত্তেজনা আবার বাড়তে শুরু করে। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে পাঁচদিনের সংঘর্ষে দুই দেশের ৪৮ জন নিহত এবং ৩ লাখ মানুষ ঘরছাড়া হয়। যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতাকারী ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র ও মালয়েশিয়া।

রোববার (৭ ডিসেম্বর) দুপুর ২টার পর থাইল্যান্ডের সি সা কে প্রদেশে আবারও সংঘর্ষ শুরু হয়। এ লড়াইয়ে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৩ জন নিহত ও কয়েক ডজন আহত হয়েছেন।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন