নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রে কেরাতের গুরুত্ব অপরিসীম। অনেক মুসল্লির মনে প্রশ্ন থাকে—নামাজের সময় কেরাত কি মুখে উচ্চারণ করে পড়া জরুরি, নাকি মনে মনে পড়লেও নামাজ শুদ্ধ হবে? এ বিষয়ে ইসলামী ফিকহে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।
ফিকহবিদদের মতে, একা নামাজ আদায়কারী (মুনফারিদ) এবং ইমামের জন্য ফরজ নামাজের প্রথম দুই রাকাতে এবং সুন্নত ও নফল নামাজের প্রতিটি রাকাতে কোরআনের কেরাত পড়া ফরজ। এর মধ্যে সুরা ফাতেহা পড়া ওয়াজিব এবং ফাতেহার সঙ্গে কোরআনের অন্য অংশ থেকে অন্তত তিনটি ছোট আয়াত বা একটি বড় আয়াত পড়া আবশ্যক।
ইসলামী বিধান অনুযায়ী, নামাজের কেরাত অবশ্যই মুখে উচ্চারণ করে পড়তে হবে। শুধুমাত্র মনে মনে পড়লে তা কেরাত হিসেবে গণ্য হয় না। ফলে কেউ যদি ফরজ কেরাত মনে মনে পড়ে, তাহলে তার নামাজ বাতিল হয়ে যাবে। আর ওয়াজিব কেরাত মনে মনে পড়লে সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে।
কিছু নামাজে কেরাত উচ্চস্বরে এবং কিছু নামাজে নিম্নস্বরে পড়া ওয়াজিব বা সুন্নত হিসেবে নির্ধারিত। ফজর, জুমা, দুই ঈদের নামাজ, তারাবিহ, রমজানের বেতর এবং মাগরিব ও ইশার প্রথম দুই রাকাতে ইমামের জন্য উচ্চস্বরে কেরাত পড়া সুন্নত। এসব নামাজে মুক্তাদিরা নীরবে ইমামের কেরাত শুনবেন।
সংখ্যাগরিষ্ঠ আলেমদের মতে, একা নামাজ আদায়কারীর জন্যও ফজর এবং মাগরিব ও ইশার প্রথম দুই রাকাতে উচ্চস্বরে কেরাত পড়া সুন্নত। তবে কেউ নিম্নস্বরে পড়লেও নামাজ শুদ্ধ হবে। এ প্রসঙ্গে হাদিসে এসেছে, নবীজি (সা.) কখনও উচ্চস্বরে আবার কখনও নিম্নস্বরে রাতের নামাজে কোরআন তিলাওয়াত করতেন (মুসনাদে আহমদ)।
জোহর ও আসরের নামাজে ইমাম, মুক্তাদি এবং একা নামাজ আদায়কারী সবাইকে নিম্নস্বরে কেরাত পড়তে হয়। কেউ ভুল করে উচ্চস্বরে কেরাত পড়লে সাহু সিজদা দিতে হবে।
যে নামাজগুলোতে নিম্নস্বরে কেরাত পড়তে হয়, সেখানে এতটুকু আওয়াজে পড়া উত্তম যেন নামাজি নিজে শুনতে পারেন, কিন্তু পাশের কেউ না শোনে। তবে কেউ যদি ঠোঁট নেড়ে সঠিকভাবে হরফের মাখরাজ আদায় করে খুব নিচু স্বরে পড়ে, নিজে শুনতে না পেলেও নামাজ আদায় হয়ে যাবে।

