বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে পারস্পরিক আক্রমণ বন্ধে রাজি তিন দল

ডেস্ক রিপোর্ট।।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক শরিফ ওসমান হাদির ওপর প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে পারস্পরিক দোষারোপে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সরকার। নির্বাচন সামনে রেখে এই ধরনের রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টিকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য হুমকি হিসেবে দেখছে অন্তর্বর্তী সরকার।

এ প্রেক্ষাপটে শনিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বৈঠকে তিনি নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র প্রতিরোধে পারস্পরিক বিরোধ ভুলে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। সরকারের এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে দলগুলো ঐক্যের অঙ্গীকার করেছে বলে জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং।

বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে একে অন্যকে দোষারোপ করা থেকে সরে আসতে হবে। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ক্ষুদ্র দলীয় স্বার্থে একে অপরকে প্রতিপক্ষ বানিয়ে ফেলার কারণে বিরোধীরা সুযোগ নিচ্ছে। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, রাজনৈতিক টানাপোড়েনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

যদিও যমুনার বৈঠকে ঐক্যের কথা উঠে এসেছে, তবুও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পারস্পরিক অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ থামেনি। ভুয়া ফটোকার্ড ও এআই দিয়ে তৈরি ছবির সূত্র ধরে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী হাদির ওপর হামলার জন্য জামায়াত-শিবিরকে দায়ী করেন বলে দাবি করেন। পরে ফ্যাক্টচেকে বক্তব্য ভুল প্রমাণিত হলে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। তবে এর আগেই জামায়াত তার বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানায় এবং ক্ষমা চাইতে বলে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ঐক্যবদ্ধ থাকলেও নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে বিরোধী শক্তিগুলোর মধ্যে বিভাজন স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনা বাড়ছে, যা নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

হাদির ওপর হামলার ঘটনায় সন্দেহভাজন গুলিবর্ষণকারী ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খানের ছাত্রলীগ-সম্পৃক্ততার তথ্য সামনে আসায় ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সরকার মনে করছে, নির্বাচন বানচাল করতে একটি সংগঠিত শক্তি সক্রিয় রয়েছে।

যমুনার বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস বলেন, নির্বাচন ঠেকাতে প্রশিক্ষিত শুটার মাঠে নামানো হয়েছে। এই হামলা নিছক ঘটনা নয়, বরং এটি একটি বড় ষড়যন্ত্রের অংশ। তিনি সবাইকে সতর্ক করে বলেন, নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব বাড়ালে ষড়যন্ত্রকারীরাই লাভবান হবে।

আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই পতিত শক্তি আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। তিনি দলগুলোর প্রতি জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার আহ্বান জানান।

বৈঠক শেষে নেতারা হাদির পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ঐক্যবদ্ধ থাকার আশ্বাস দেন। একই দিন হাদির পরিবারের সদস্যরা যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা করেন। ড. ইউনূস হাদির সর্বোচ্চ চিকিৎসা ও হামলাকারীদের বিচারের আওতায় আনার আশ্বাস দেন।

এদিকে হাদির ওপর হামলার প্রতিবাদে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি ও অন্যান্য সংগঠনের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কয়েকটি স্থানে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক ফেসবুক পোস্টে হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও হাদির সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন এই হামলাকে গণতন্ত্র ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

হাদির চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে ফাহিম আল ট্রাস্ট আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ট্রাস্টের পক্ষ থেকে প্রয়োজনে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন