অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ থেকে পদত্যাগ করা দুই ছাত্র উপদেষ্টা মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া কোন রাজনৈতিক দলে যোগ দিচ্ছেন—এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছিল নানা জল্পনা। তবে সংশ্লিষ্ট একাধিক ঘনিষ্ঠ সূত্র ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র শীর্ষ নেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই তারা এনসিপিতে যোগ দেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে পারেন।
সূত্র জানায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের এই দুই শীর্ষ সংগঠক আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ইতোমধ্যে আসিফ মাহমুদ ঢাকা-১০ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। অন্যদিকে মাহফুজ আলম লক্ষ্মীপুর-১ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে তার ঘনিষ্ঠ সূত্র নিশ্চিত করেছে।
এদিকে লক্ষণীয় বিষয় হলো, এনসিপি সম্প্রতি ১২৫টি আসনে তাদের প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করলেও ঢাকা-১০ ও লক্ষ্মীপুর-১ আসনে কোনো প্রার্থী দেয়নি। ফলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই দুটি আসন মাহফুজ ও আসিফের জন্যই ফাঁকা রাখা হয়েছে।
এনসিপিতে যোগদানের সম্ভাবনা নিয়ে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেওয়া দুই ছাত্রনেতার জন্য গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় গড়ে ওঠা দলে যুক্ত হওয়াই স্বাভাবিক। তিনি জানান, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা খুব শিগগিরই আসবে।
এর আগে দুই ছাত্র উপদেষ্টার পদত্যাগের পর এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন গণমাধ্যমে বলেন, আসিফ মাহমুদ এখন জনতার কাতারে। তিনি কোন দলে যাবেন, তা তার নিজস্ব সিদ্ধান্ত। তবে তিনি বা মাহফুজ আলম যদি এনসিপিতে যুক্ত হতে চান, দল তাদের স্বাগত জানাবে।
উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে উপদেষ্টার দায়িত্ব ছেড়ে এনসিপির প্রতিষ্ঠাকালীন আহ্বায়ক হন জুলাই অভ্যুত্থানের আরেক নেতা নাহিদ ইসলাম। দলীয় একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, আসিফ মাহমুদ এনসিপিতে যোগ দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব পাওয়ার নিশ্চয়তা চাচ্ছেন, যা আহ্বায়কের পরের পদমর্যাদার সমান। অন্যদিকে মাহফুজ আলম সরাসরি সাংগঠনিক ক্ষমতা না চাইলেও দলে প্রভাবশালী অবস্থান প্রত্যাশা করছেন।
দলীয় সূত্রের দাবি, এই দায়িত্ব ও অবস্থান নিয়ে আলোচনার কারণেই আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। তবে শেষ পর্যন্ত মাহফুজ ও আসিফ—দুজনই এনসিপিতেই যোগ দিচ্ছেন বলে প্রায় নিশ্চিত।

