নিরাপত্তা পরিস্থিতি জোরদার ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের লক্ষ্যে সারা দেশে যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযান ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ–২’ শুরু হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যা থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে প্রথম দুই দিনে ১ হাজার ৪৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানে ছয়টি বিভিন্ন ধরনের অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানায়, জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং সহিংসতা সৃষ্টিকারীদের দমনে এ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। গত শনিবার রাতে শুরু হয়ে রোববার পর্যন্ত চলা অভিযানে গ্রেপ্তারদের মধ্যে বিভিন্ন মামলার আসামি ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত ৯০৭ জন রয়েছেন। একই সময়ে উদ্ধার করা হয়েছে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি রামদা, একটি তলোয়ার, একটি চাকু এবং একটি রিচার্জেবল স্টানগান।
ঢাকায় সম্ভাব্য সংসদ প্রার্থী শরিফ ওসমান বিন হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোর কমিটির বৈঠকে এই বিশেষ অভিযান জোরদারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ–২’ শুরু করা হয়।
পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে এবং যারা নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতেই এই অভিযান চালানো হচ্ছে।
এদিকে পুলিশের মুখপাত্র এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন জানান, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সারা দেশে যৌথ বাহিনীর এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য, এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সারা দেশে প্রথম দফায় ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ পরিচালনা করা হয়। গাজীপুরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও সহিংস ঘটনার পর সে সময় যৌথ বাহিনীর এই বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছিল। এবার দ্বিতীয় দফায় একই নামে আরও বিস্তৃত পরিসরে অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

