মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, স্বাধীনতার প্রকৃত অর্জন তখনই নিশ্চিত হবে, যখন গণতন্ত্র আরও শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়াবে এবং তা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে। ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের সব স্তরে সহনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ঐক্যের চর্চা জোরদার করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) দেওয়া বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গৌরবোজ্জ্বল দিন, যা স্বাধীনতার চূড়ান্ত সাফল্য ও জাতির বিজয়ের প্রতীক। এ উপলক্ষে তিনি দেশে ও বিদেশে বসবাসরত সকল বাংলাদেশিকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, দীর্ঘ শোষণ-বঞ্চনা ও ত্যাগের পথ পেরিয়ে ১৯৭১ সালের এই দিনে নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অর্জন করে। তিনি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী শহিদদের, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের, সম্ভ্রমহারা মা-বোনদের এবং স্বাধীনতা সংগ্রামে অবদান রাখা সকল মানুষের ত্যাগ ও অবদান।
বাণীতে তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য শুধু রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্জন নয়; অর্থনৈতিক মুক্তি ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাও ছিল এর অন্যতম উদ্দেশ্য। তবে স্বাধীনতার পাঁচ দশক পরও জনগণের পূর্ণ রাজনৈতিক ও আর্থসামাজিক মুক্তি এখনও সম্পূর্ণভাবে অর্জিত হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, এই বাস্তবতায় ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান একটি বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনের নতুন আশার দ্বার খুলে দিয়েছে।
শেষে তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে শোষণমুক্ত, সমৃদ্ধ ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান এবং এটিকেই মহান বিজয় দিবসের অঙ্গীকার হিসেবে তুলে ধরেন।

