মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) আওতাধীন সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আগামী জানুয়ারি থেকে সহ-পাঠ্যক্রমিক কার্যক্রম বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মানসিক, শারীরিক ও সামগ্রিক বিকাশ নিশ্চিত করতে একাডেমিক পাঠদানের পাশাপাশি সারা বছর পরিকল্পিতভাবে খেলাধুলা, বিতর্ক, বক্তৃতা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) মাউশির শারীরিক শিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা এক নির্দেশনায় এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। এতে বলা হয়, সহ-পাঠ্যক্রমিক কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিত্ব বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং একাডেমিক শিক্ষাকে আরও কার্যকর করে তোলে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নির্ধারিত ক্লাস রুটিনের সঙ্গে সমন্বয় করে হাউজভিত্তিকভাবে এসব কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে হবে। পাশাপাশি আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই বার্ষিক কার্যক্রম ক্যালেন্ডার প্রণয়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়, সহ-পাঠ্যক্রমিক কার্যক্রমের আওতায় নিয়মিত ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করতে হবে। এর মধ্যে ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল, দাবা ও দৌড় অন্তর্ভুক্ত থাকবে। একই সঙ্গে বাংলা ও ইংরেজি বক্তৃতা, উপস্থিত বক্তৃতা, বিতর্ক, কুইজ প্রতিযোগিতা ও দেয়ালিকা তৈরির কার্যক্রম পরিচালনার কথা বলা হয়েছে।
এছাড়া সাংস্কৃতিক কার্যক্রম হিসেবে কোরআন তেলাওয়াত, হামদ ও নাত, রবীন্দ্রসঙ্গীত, লোকগীতি, আবৃত্তি, নৃত্য, একক অভিনয় এবং গ্রাফিতি অঙ্কনের প্রতিযোগিতা আয়োজনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মাউশি জানায়, এসব কার্যক্রম ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে সারা বছর চলমান থাকবে। কার্যক্রম বাস্তবায়নে প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে। পাশাপাশি প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বয়েজ স্কাউট, রোভার স্কাউট, গার্ল গাইডস, বিজ্ঞান ক্লাব, বিতর্ক ক্লাব ও স্বাস্থ্য ও শারীরিক শিক্ষা ক্লাবের কার্যক্রমে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে একাডেমিক কার্যক্রমের সঙ্গে সমন্বয় রেখে সহ-পাঠ্যক্রমিক কার্যক্রমের বার্ষিক ক্যালেন্ডার আগামী ২৭ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রস্তুত করতে হবে। এসব কার্যক্রমের বাস্তবায়ন ও অগ্রগতি মাউশির শারীরিক শিক্ষা বিভাগ নিয়মিত তদারকি ও মনিটরিং করবে।

