চলতি সপ্তাহে টানা তৃতীয় কার্যদিবসের মতো বুধবারও (১৭ ডিসেম্বর) দেশের শেয়ারবাজারে দরপতনের ধারা অব্যাহত রয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) এদিন অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। এর প্রভাবে উভয় বাজারেই সব সূচক কমে লেনদেন শেষ হয়।
ডিএসইতে দিনের শুরুতে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেলেও তা স্থায়ী হয়নি। লেনদেন শুরুর পর প্রথম দুই ঘণ্টা সূচক ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও পরবর্তী সময়ে ব্যাপক বিক্রির চাপে বাজার ঘুরে দাঁড়াতে ব্যর্থ হয়। শেষ পর্যন্ত সব সূচকই নিম্নমুখী হয়ে দিনের লেনদেন শেষ করে।
দিনশেষে ডিএসইতে মোট ৩৯০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র ৪৮টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ২৯৯টির দাম কমেছে এবং ৪৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
ভালো কোম্পানি হিসেবে পরিচিত ১০ শতাংশ বা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ২০টির দাম বাড়লেও ১৬৭টির শেয়ার দর কমেছে। অপরদিকে ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া মাঝারি মানের কোম্পানিগুলোর মধ্যে ১২টির দাম বাড়লেও ৬৫টির দর কমেছে।
লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ শ্রেণিভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যেও নেতিবাচক চিত্র দেখা গেছে। এ গ্রুপের ১৬টির শেয়ার দাম বাড়লেও ৬৭টির দর কমেছে। এছাড়া তালিকাভুক্ত ৩৫টি মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে মাত্র দুইটির দাম বেড়েছে।
সব মিলিয়ে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৩৬ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৮৫৩ পয়েন্টে। শরিয়াহ সূচক ৭ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৮ পয়েন্টে এবং ডিএসই-৩০ সূচক ৭ পয়েন্ট কমে নেমে এসেছে ১ হাজার ৮৬৯ পয়েন্টে।
দরপতনের পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও কমেছে। এদিন বাজারে মোট লেনদেন হয়েছে ৩৭৫ কোটি ৭৮ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় প্রায় ৩৭ কোটি টাকা কম।
লেনদেনে শীর্ষে ছিল ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিংস। কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৭ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। এরপর রয়েছে সায়হান কটন ও খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ। শীর্ষ ১০ লেনদেন হওয়া প্রতিষ্ঠানের তালিকায় আরও রয়েছে সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ, ফাইন ফুডস, লাভেলো আইসক্রিম, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, ওরিয়ন ইনফিউশন ও বিডি থাই ফুড।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও একই চিত্র দেখা গেছে। সিএসইর প্রধান সূচক সিএএসপিআই ৭৬ পয়েন্ট কমেছে। লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৬০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১০৩টির দাম কমেছে। বাজারটিতে মোট লেনদেন হয়েছে ৫ কোটি ৮১ লাখ টাকা।
বিশ্লেষকদের মতে, বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতা ও স্বল্পমেয়াদি মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতার কারণে বাজারে বিক্রির চাপ বাড়ছে, যা সূচক ও লেনদেনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

