বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

এবার হাদির ওপর হামলাকারী ফয়সালকে নিয়ে ‘ভয়ংকর’ তথ্য দিলেন মা-বাবা

ডেস্ক রিপোর্ট।।

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদিকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় করা মামলায় প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান ওরফে শুটার ফয়সালের বাবা হুমায়ুন কবির ও মা হাসি বেগম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনিরুল ইসলাম-এর আদালতে তারা জবানবন্দি দেন। শুনানি শেষে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

জবানবন্দিতে ফয়সালের বাবা-মা জানান, ছেলের সব ধরনের অপকর্মের বিষয়ে তারা আগে থেকেই অবগত ছিলেন। হাদিকে গুলি করার পর ফয়সাল ও তার সহযোগীকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন তারা। পাশাপাশি ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্র লুকাতেও ভূমিকা রাখেন বলে স্বীকার করেন।

তারা আরও জানান, ঘটনার দিন সকাল থেকে ফয়সাল কোনো মোবাইল ফোন ব্যবহার করেনি। আগের রাতেই সে হাদির পরদিনের কর্মসূচি সম্পর্কে জেনে নেয়। গুলির ঘটনার পর ফয়সাল শেরেবাংলা নগরে তার বোনের বাসায় আশ্রয় নেয়, যেখানে বাবা-মা ও বোন উপস্থিত ছিলেন। সেখানে গিয়ে ফয়সাল তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র তার বাবার হাতে তুলে দেয়।

জবানবন্দিতে বলা হয়, এরপর মোটরসাইকেলের নম্বর প্লেট পরিবর্তন করা হয় এবং সব ব্যবস্থা বাবাই করে দেন। পরে ফয়সাল বাসা থেকে বের হয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠে। বের হওয়ার সময় সে জানায়, বাংলাদেশ ছেড়ে চলে যাবে।

আদালতে দেওয়া বক্তব্যে বাবা-মা আরও বলেন, ফয়সাল তিনটি বিয়ে করেছে এবং তার একজন বান্ধবী রয়েছে। ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনার সময় থেকেই সে রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ে এবং পরে আওয়ামী লীগের উচ্চপর্যায়ের একাধিক নেতার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে।

তারা জানান, মাদক গ্রহণসহ বিভিন্ন অপরাধে ফয়সাল জড়িত ছিল—এসব বিষয় তারা জানতেন। তবে পারিবারিক সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ ছিল না বলেও উল্লেখ করেন। ফয়সাল সাধারণত আলাদা থাকত এবং তারা মেয়ের বাসায় অবস্থান করতেন।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন