মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
Logo

ধানের শীষে নির্বাচন করতে নিজ দল ছাড়তে পারেন জোটের নেতারা

ডেস্ক রিপোর্ট।।

বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা মিত্র রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আসন ভাগাভাগির বিষয়টি আগামী সপ্তাহেই চূড়ান্ত হতে পারে। নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো জানিয়েছে, সমঝোতার অংশ হিসেবে মিত্র দলগুলোর বেশ কয়েকজন পরিচিত ও প্রভাবশালী নেতা বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করতে পারেন।

বর্তমান নির্বাচন আইন অনুযায়ী নিবন্ধিত দলগুলো জোটবদ্ধ হলেও নিজ নিজ দলীয় প্রতীকেই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা। তবে বাস্তব ভোটের হিসাব এবং জয়ের সম্ভাবনা বিবেচনায় রেখে বিএনপি ও শরিকরা নতুন কৌশলে এগোচ্ছে বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, অন্তত ১০ জন শীর্ষ নেতা ইতোমধ্যে নিজ দল থেকে পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছেন। এর ফলে আসন নিয়ে যে টানাপোড়েন ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল, তা অনেকটাই প্রশমিত হচ্ছে।

আসন বণ্টন নিয়ে সমাধানে পৌঁছাতে বিএনপি গত বুধবার থেকে জোট ও শরিক দলগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক ‘ওয়ান টু ওয়ান’ বৈঠক শুরু করেছে। প্রথম দফার আলোচনায় ১২ দলীয় জোট এবং জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটকে একটি করে আসন ছাড় দেওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ১২ দলীয় জোটকে আরও একটি আসন দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা চলছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, পিরোজপুর-১ আসনে জাতীয় পার্টি (জাফর)-এর নেতা মোস্তফা জামাল হায়দার এবং নড়াইল-২ আসনে এনপিপি চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদকে ধানের শীষ প্রতীকে প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

এদিকে এলডিপি, গণতন্ত্র মঞ্চ, গণফোরামসহ অন্যান্য শরিক দলের সঙ্গেও আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। আজ বিভিন্ন বাম ও ডানপন্থি জোটের সঙ্গে বৈঠক শেষে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সঙ্গে আলোচনায় বসার কথা রয়েছে বিএনপির।

বিএনপির একাধিক নীতিনির্ধারক জানান, ছোট দলগুলোর অনেক প্রার্থী নিজস্ব প্রতীকে নির্বাচন করলে জয়ের সম্ভাবনা কম—এই বাস্তবতা থেকেই ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করার পথ খোলা রাখা হয়েছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন,
“যুগপৎ আন্দোলনের অংশ হিসেবে শরিকদের জন্য কিছু আসন ছাড় দেওয়ার বিষয়ে আমরা নীতিগতভাবে একমত।”

উল্লেখ্য, বিএনপি ইতোমধ্যে ২৭২টি আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষণা করেছে। বাকি ২৮টি আসন মূলত জোট সমঝোতার জন্য ফাঁকা রাখা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে এবং মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ২৯ ডিসেম্বর।

তবে জোটের সব নেতা দল ছাড়তে রাজি নন। মাহমুদুর রহমান মান্না, সাইফুল হক, আন্দালিব রহমান পার্থ, জোনায়েদ সাকি ও নুরুল হক নুর নিজ নিজ প্রতীকে নির্বাচন করতে আগ্রহী বলে জানা গেছে। এসব বিষয়ে আলোচনাও চলমান রয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি ও তাদের মিত্রদের এই কৌশল জোট রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন