সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
Logo

ভারতীয় আধিপত্যবিরোধী ৫০ ব্যক্তি উচ্চ ঝুঁকিতে

ডেস্ক রিপোর্ট।।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বলছে, সাম্প্রতিক সময়ের কয়েকটি সহিংস ঘটনার পর আধিপত্যবিরোধী অবস্থানে থাকা রাজনৈতিক, ছাত্র ও বুদ্ধিবৃত্তিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছেন।

বিশেষ করে জুলাই আন্দোলন-পরবর্তী সময়ে যারা সার্বভৌমত্ব, সমমর্যাদার পররাষ্ট্রনীতি ও প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর একপাক্ষিক প্রভাবের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলছেন, তাদের লক্ষ্য করে পরিকল্পিত হুমকি ও হামলার আশঙ্কা করছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।

ইনকিলাব মঞ্চের সংগঠক শরিফ ওসমান হাদির ওপর প্রকাশ্য হামলার ঘটনাকে ‘টার্নিং পয়েন্ট’ হিসেবে দেখছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, এটি নিছক বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়; বরং ভিন্নমত দমনের একটি বড় পরিকল্পনার ইঙ্গিত বহন করে।

নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, এ ধরনের হামলার আগে টার্গেট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার, নজরদারি ও ডিজিটাল ট্র্যাকিংয়ের মতো কার্যক্রম চালানো হয়।

গোয়েন্দা ও সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, ফেসবুক ও অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমে কিছু গোপন নেটওয়ার্ক সক্রিয় রয়েছে, যারা নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত তথ্য, চলাচলের রুট ও অবস্থান ছড়িয়ে দিচ্ছে। একে ‘ডিজিটাল হিটলিস্ট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরির কৌশল, যার মাধ্যমে সমালোচকদের ভয় দেখিয়ে চুপ করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

নিরাপত্তা মূল্যায়নে অন্তত ৫০ জন ব্যক্তি বর্তমানে ‘উচ্চ ঝুঁকি’ তালিকায় রয়েছেন বলে জানা গেছে। এ তালিকায় রয়েছেন—রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা, ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক, সম্পাদক, আইনজীবী, ধর্মীয় নেতাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রভাবশালী ব্যক্তি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকাকে বিশেষভাবে সংবেদনশীল হিসেবে চিহ্নিত করেছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো। কয়েকজন ছাত্রনেতা ফোনে হুমকি পাওয়ার কথাও জানিয়েছেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও গোয়েন্দা সূত্র জানায়, ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে—সশস্ত্র এসকর্ট, সাদা পোশাকের নিরাপত্তা কর্মী, চলাচল নজরদারি এবং প্রয়োজনে অস্থায়ী সেফ হাউসের ব্যবস্থা।

একাধিক কর্মকর্তা জানান, একটি কেন্দ্রীয় সমন্বয় সেলের মাধ্যমে এসব নিরাপত্তা কার্যক্রম তদারকি করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভিন্নমতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তারা বলছেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের ভাষায়, “এটি শুধু ব্যক্তির নিরাপত্তার প্রশ্ন নয়, রাষ্ট্রের নৈতিক শক্তি ও গণতান্ত্রিক ভিত্তির পরীক্ষাও বটে।”

সূত্র: আমার দেশ

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন