রিকশায় চলাচলের সময় প্রাণঘাতী হামলার আশঙ্কার কথা আগেই প্রকাশ করেছিলেন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদি। মৃত্যুর কিছুদিন আগে এক গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি নিজের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন।
সেই সাক্ষাৎকারে হাদি বলেন, বাংলাদেশের বাস্তবতায় অল্প অর্থের বিনিময়ে কন্ট্রাক্ট কিলিং করানো সম্ভব। তিনি উল্লেখ করেন, “আমি যেহেতু রিকশায় চলাচল করি, যেকোনো সময় কাউকে টাকা দিলেই সে হামলা করে চলে যেতে পারে।”
রাজনৈতিক সহিংসতার প্রসঙ্গ টেনে হাদি আরও বলেন, অনেক সময় রাজনৈতিক মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের একটি বড় অংশ ভাড়ায় আনা মানুষ। “৫–১০ হাজার টাকা দিয়ে দুই মিনিটের জন্য মানুষ নামানো হয়, পরে ধরা পড়লে দায় নিতে হয় সাধারণ মানুষের,”—এমন মন্তব্য করেন তিনি।
সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থার পরিবর্তন প্রসঙ্গে হাদি বলেন, কেবল ভালো কথা বলা বা টেলিভিশনে আলোচনা করলেই সমাজ বদলাবে না। তার মতে, যতদিন চরম দারিদ্র্য দূর না হবে, ততদিন একটি সুস্থ রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, দারিদ্র্য মানুষকে অপরাধ ও দুর্নীতির দিকে ঠেলে দেয়।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশায় চলার সময় পেছন থেকে আসা একটি মোটরসাইকেল থেকে ওসমান হাদিকে গুলি করা হয়। মাথায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাত পৌনে ১০টার দিকে তিনি মারা যান।
শনিবার (২০ ডিসেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জানাজা শেষে শহীদ শরিফ ওসমান হাদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে দাফন করা হয়।

