কুষ্টিয়া–রাজবাড়ী রেলপথের কুমারখালী রেলস্টেশনের পূর্ব প্রান্তে ফুলতলা মোড়ে সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনের সঙ্গে একটি মোটরসাইকেলের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক যুবদল নেতা আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় আরও একটি মোটরসাইকেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রোববার (২১ ডিসেম্বর) দুপুরে কুমারখালী শহরের গুরুত্বপূর্ণ এই মোড়ে দুর্ঘটনাটি ঘটে। ফুলতলা মোড়টি কলেজ মোড় নামেও পরিচিত। এখান দিয়ে কুমারখালী শহর, উপজেলা পরিষদ, থানা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সাপ্তাহিক হাটে যাতায়াতের বিকল্প সড়ক রয়েছে। মোড়ের পাশেই কুমারখালী সরকারি কলেজ অবস্থিত।
আহত যুবদল নেতার নাম মো. শহিদুল ইসলাম (৪০)। তিনি জগন্নাথপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি এবং হাসিমপুর গ্রামের মৃত সামছুদ্দিনের ছেলে। দুর্ঘটনার পর তাকে কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর আনুমানিক ১২টা ১০ মিনিটে সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনটি হর্ন বাজিয়ে রাজবাড়ী থেকে কুষ্টিয়ার দিকে যাচ্ছিল। এ সময় গেট না থাকায় পালসার মোটরসাইকেল নিয়ে ঝুঁকি নিয়ে রেললাইন পার হওয়ার চেষ্টা করেন শহিদুল ইসলাম। ট্রেনটি কাছাকাছি চলে এলে তিনি মোটরসাইকেল ফেলে লাফ দিয়ে প্রাণে বাঁচেন। তবে ট্রেনের ধাক্কায় তার মোটরসাইকেলটি ছিটকে গিয়ে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আরেকটি মোটরসাইকেলের ওপর পড়ে। এতে দুইটি মোটরসাইকেলই দুমড়েমুচড়ে যায়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মিষ্টি ব্যবসায়ী কাজল হোসেন বলেন, এখানে রেলগেট না থাকায় প্রায়ই ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ট্রেনের হর্ন শুনে তিনি নিজ মোটরসাইকেল থামিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তখনই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুল মালেক জানান, ফুলতলা মোড়ে দীর্ঘদিন ধরে কোনো রেলগেট বা সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেই। ফলে ট্রেন আসার সময় মানুষ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করে এবং প্রায়ই দুর্ঘটনার মুখে পড়ে। দ্রুত রেলগেট স্থাপনের দাবি জানান তিনি।
আহত শহিদুল ইসলাম বলেন, ব্যাংক থেকে বাড়ি ফেরার পথে রেললাইনের মাঝামাঝি পৌঁছালে ট্রেনটি খুব কাছে চলে আসে। পিছনে আরেকটি মোটরসাইকেল থাকায় পেছানো সম্ভব হয়নি। বাধ্য হয়ে লাফ দিলে ট্রেনটি মোটরসাইকেলে ধাক্কা দেয়।
এ বিষয়ে কুমারখালী রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, রোববার দুপুরে ট্রেনের সঙ্গে একটি মোটরসাইকেলের দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে। বড় ধরনের প্রাণহানি না হলেও মোটরসাইকেলটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি জানান, ফুলতলা এলাকাটি অনুমোদিত রেলক্রসিং নয়, তাই সেখানে গেট স্থাপন করা হয়নি। তবে স্থানীয়দের লিখিত আবেদন পেলে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
স্থানীয়দের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ এই মোড়ে দ্রুত রেলগেট স্থাপন না করলে ভবিষ্যতে আরও বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

